২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে এ দণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এ ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সরাসরি সম্প্রচারের প্রথম ঘটনা হবে এটি।
২০১৩ সালের আগস্টে সামরিক আদালত হাসানকে পরিকল্পিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ৪৫টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী হাসানের দণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ ডিসেম্বর দুপুর ১টা।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, মানুষকে এ কার্যক্রম দেখার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তারা এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারে। হাসানের শেষ ইচ্ছা বা কোনো অনুরোধ রয়েছে কি না, জানতে চাইলে হেগসেথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সুপারিশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনায় ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।
মৃত্যুদণ্ডবিরোধী সংগঠন ডেথ পেনাল্টি অ্যাকশন জানিয়েছে, হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটবে। অন্যদিকে, দেশটিতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৪৫ সালে।
মৃত্যুদণ্ড সম্প্রচার নিয়ে আইনি বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রে অতীতে আদালত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য টেলিভিশনে সম্প্রচারের অনুমতি দেয়নি। সামরিক আইন বিশেষজ্ঞ ইউজিন ফিডেলের মতে, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার বা টেলিভিশনে দেখানোর নজির নেই।
ইয়েল ল স্কুলের এ আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, হাসান চাইলে মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে সম্প্রচার বন্ধের জন্য ফেডারেল আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। এ বিষয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টেরও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
সামরিক বিচারব্যবস্থার লেখক ও ইতিহাসবিদ জনাথন লুরি মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে দেখানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রদর্শনের পক্ষে শক্ত কোনো যুক্তি নেই।
ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বাড়ছে
ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান রয়েছে। ২০২৫ সালে সাউথ ক্যারোলাইনায় ১৫ বছর পর প্রথমবারের মতো এ পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
এদিকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধ সংগ্রহে সংকট এবং ইনজেকশন প্রয়োগে জটিলতা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইলেকট্রিক চেয়ার ও গ্যাস প্রয়োগের মতো পদ্ধতিও অনুমোদিত পদ্ধতির তালিকায় যুক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে টেনেসিতে গত সপ্তাহে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের ওপর প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০০ বছরের বেশি সময় পর অঙ্গরাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। ইনজেকশন প্রয়োগে ব্যর্থতার পর পাইককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।![]()