শিল্প ও ব্যবসা খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২৮ সাল শুরুর আগেই তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে মধ্যমেয়াদে প্রায় ১৫০টি কূপ খননের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনায় আমদানি ও দেশীয় উৎস—দুই দিকেই সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সোমবার সচিবালয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। বৈঠকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ নিয়ে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় একটি অংশ নির্ভর করে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের ওপর। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, বস্ত্র ও পোশাকশিল্প, সিরামিক, ইস্পাতসহ বিভিন্ন শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হলে উৎপাদন কমে যায়। তাই গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা সেই ঘাটতি মোকাবিলার একটি উদ্যোগ। দেশে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য এ ধরনের টার্মিনাল ব্যবহৃত হয়। নতুন টার্মিনাল চালু হলে আমদানি করা এলএনজি গ্রহণের সক্ষমতা বাড়বে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি হবে।
তবে শুধু এলএনজি আমদানি বাড়ালেই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। সে কারণে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে মধ্যমেয়াদে প্রায় ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। এসব অনুসন্ধান সফল হলে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্যও সরকারের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস, এলএনজি ও অন্যান্য উৎসকে সমন্বিত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এতে কোনো একটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব হবে।
শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের দাবি জানিয়ে আসছেন। গ্যাসের চাপ কমে গেলে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়, উৎপাদন ব্যয় বাড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করতে হয়। ফলে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা সরাসরি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত।
সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে আমদানিনির্ভর জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় অনুসন্ধানও জোরদার হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি, বিনিয়োগ ব্যয় এবং গ্যাসের দাম—এসব বিষয়ও শেষ পর্যন্ত এর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।![]()