ইত্তেফাক রিপোর্ট
ছোট ব্যবসা ও কম টার্নওভারের কোম্পানিগুলোর করের চাপ কমাতে ন্যূনতম টার্নওভার করের কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাব অনুযায়ী, বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে আর ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হবে না। একই সঙ্গে টার্নওভারভেদে স্লাবভিত্তিক করহার চালুর পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবটির সারসংক্ষেপ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন করেছেন। বর্তমানে এটি আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
বর্তমানে কোনো ব্যবসা লাভে থাকুক বা লোকসানে, টার্নওভারের ওপর ১ শতাংশ ন্যূনতম কর দিতে হয়। নতুন প্রস্তাবে সেই হার কমিয়ে ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ন্যূনতম টার্নওভার কর
অর্থাৎ, ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১ শতাংশ কর বহাল থাকবে।
ভ্যাট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু বলেন, ব্যবসা বন্ধ হওয়ার প্রবণতার মধ্যে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য এ উদ্যোগ স্বস্তিদায়ক। অন্যদিকে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক ও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ মনে করেন, প্রকৃত মুনাফার ভিত্তিতে কর আরোপ নিশ্চিত করতে ন্যূনতম টার্নওভার কর পুরোপুরি বাতিল করা উচিত।
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, প্রস্তাবটি ছোট ব্যবসাকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও কম মুনাফা বা লোকসানে থাকা বড় প্রতিষ্ঠানের সমস্যার পুরো সমাধান নয়।
তবে অংশীজনদের একটি অংশ সতর্ক করেছেন, ২ কোটি টাকার করমুক্ত সীমা চালু হলে কিছু প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্রি কম দেখিয়ে ওই সীমার মধ্যে থাকার চেষ্টা করতে পারে। ফলে কার্যকর নজরদারি ও তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।
এফবিসিসিআইয়ের হিসাবে, বর্তমান ব্যবস্থায় ৫০ লাখ টাকা বিক্রি ও ৫ শতাংশ মুনাফার একটি ব্যবসার আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা হলেও তাকে ৫০ হাজার টাকা টার্নওভার কর দিতে হয়। একইভাবে, ১ কোটি টাকা বিক্রি ও ৫ লাখ টাকা মুনাফার একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আয়কর ১০ হাজার টাকা হলেও ন্যূনতম টার্নওভার কর হিসেবে পরিশোধ করতে হয় ১ লাখ টাকা। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এ ধরনের ছোট ব্যবসাগুলো সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে।