নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং গণহত্যার দায় নির্ধারণে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শুক্রবার তাঁর নাম ঘোষণা করেছে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি।
কমিটির ভাষ্য, অসাধারণ সাহস ও সততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে নেতৃত্ব দিয়েছেন পিল্লাই। শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখতেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দেশটির বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা অ্যাপারথেইডের সময় তাঁর বেড়ে ওঠা। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি কাঠামোগত বৈষম্য, বিভাজন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কাজ করেন। অ্যাপারথেইডবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের চেয়ারপারসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারক হিসেবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে করা মামলার কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।![]()
নোবেল কমিটির মতে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মামলায় পিল্লাই দেখিয়েছেন, যুদ্ধ ও সহিংসতা প্রতিরোধে আইনি ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান রয়েছে।
রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পিল্লাই। একই বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রচারণার মাধ্যমে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার দায়ে একজন আসামির বিচার আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করে।
নোবেল কমিটি বলেছে, রাষ্ট্র ও জাতীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি সংঘাত ও সহিংসতার শিকার মানুষের জন্য ন্যায়বিচারের পথ তৈরি করেছেন পিল্লাই। ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—উভয় পক্ষেরই আইনের শাসন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে—নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনে এ নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ন্যায়বিচার অপরিহার্য। আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়লে অন্যায় ও অমানবিকতা বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ে। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে পিল্লাই দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করেছেন।
নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় পিল্লাইয়ের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। তাঁর কর্মজীবন আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে আগ্রহী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।![]()