চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের পরিকল্পনাকে সামনে রেখে সেখানে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। চাঁদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে ২০৩৬ সালের দিকে এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুল্লি থেকে প্রায় ২০ কিলোওয়াট এবং রাশিয়ার ‘সেলেনা’ প্রকল্প থেকে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে মহাকাশে পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্ন্যাপ-১০এ’ পারমাণবিক চুল্লি মহাকাশে পাঠানো হয়। একই বছর থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নও পারমাণবিক চুল্লিচালিত উপগ্রহ পাঠাতে শুরু করে। দেশটির প্রায় ৩৩টি মহাকাশযানে এ ধরনের শক্তির উৎস ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। ১৯৭৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘কসমস-৯৫৪’ উপগ্রহটি কানাডার আকাশে ভেঙে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় তেজস্ক্রিয় ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
পৃথিবীর কক্ষপথে উপগ্রহ চালাতে আগে পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হলেও চাঁদের পৃষ্ঠে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ ভিন্ন মাত্রার। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর স্থায়ী ছায়াযুক্ত এলাকায় বরফ থেকে পানি, অক্সিজেন ও রকেটের জ্বালানি তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কার্যক্রম এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ঘাঁটি পরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। সৌরবিদ্যুতের সীমাবদ্ধতার কারণে পারমাণবিক শক্তিকে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে চুল্লি স্থাপনের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া, নিরাপত্তা এবং মহাকাশে বিভিন্ন দেশের কার্যক্রমের আইনি সীমা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, নাসা, রয়টার্স
![]()