মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রিহ্যাব ৬ দফা প্রস্তাবনা পেশ !
রাজু আলীম
দেশের আবাসন খাতের সুষম ও পরিকল্পিত উন্নয়ন, টেকসই নগরায়ণ এবং সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারের কাছে ৬ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) ।
আজ বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে রিহ্যাবের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয় । আবাসন খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়ে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে দেশের সার্বিক আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ নিয়ে এই প্রস্তাবনাগুলো আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে পেশ করি ।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এবং মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু), এমপি-সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ ও রিহ্যাবের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
🔹 জাতীয় অর্থনীতিতে আবাসন খাত ও রিহ্যাবের ভূমিকা:
সাক্ষাৎকালে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করি যে, রিহ্যাব সরকার স্বীকৃত দেশের একমাত্র আবাসন খাতের ট্রেডবডি হিসেবে গত ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পিত নগরায়ণে দায়িত্বশীল উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে ।
জিডিপিতে অবদান: জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান প্রায় ১৫% ।
কর্মসংস্থান: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল ।
সংযুক্ত শিল্প: রড, সিমেন্ট, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, ইলেকট্রনিক্স, স্যানিটারি ও ফার্নিচারসহ ৩০০টিরও বেশি লিংকেজ শিল্প সরাসরি আবাসন খাতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে ।
🔹 মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ৬ দফা প্রস্তাবনা:
১. জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন: ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা, নগরায়ণ ও আবাসনের চাহিদা বিবেচনায় রেখে কৃষিজমি রক্ষা ও পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি । এর পাশাপাশি বর্তমান ড্যাপ (DAP) ও নির্মাণ বিধিমালা পুনর্মূল্যায়ন ও যুগোপযোগী সংস্কারের প্রস্তাব করছি ।
২. পিপিপি ভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি: নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত নাগরিকদের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) ভিত্তিতে সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার সুপারিশ করছি ।
৩. সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ: দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির নিজস্ব ফ্ল্যাটের স্বপ্নপূরণে উন্নত বিশ্বের মতো সহজ শর্তে সিঙ্গেল ডিজিট (Single Digit) সুদে দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং লোনের বিশেষ স্কিম চালুর বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি ।
৪. নিবন্ধন ব্যয় ও কর কাঠামো যৌক্তিকীকরণ: এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং একটি বাস্তবসম্মত, বিনিয়োগবান্ধব ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল করব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন ।
৫. ১৫% মূলধনী কর প্রত্যাহার: চলতি অর্থবছরে ফ্ল্যাট নির্মাণে জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাচ্ছি, যা সাধারণ ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত মূল্যের চাপ সৃষ্টি করছে ।
৬. প্ল্যান অনুমোদন প্রক্রিয়ার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন: বিল্ডিং প্ল্যান পাস এবং জমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি কমাতে পুরো সিস্টেমকে দ্রুততম সময়ে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার আহ্বান জানাচ্ছি ।
🔹 মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক পর্যবেক্ষণ ও আশ্বস্তকরণ:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে আমাদের কথা ও প্রস্তাবনাগুলো শোনেন এবং আবাসন শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন । বৈঠককালে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন:
সরকার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে বদ্ধপরিকর ।
শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বিকেন্দ্রীভূত ও পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হবে ।
রাজউক বা সরকারের সরাসরি আবাসন ব্যবসায় জড়ানোর প্রয়োজন নেই; বরং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) মডেলই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ।
তিনি উপস্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন ।
একটি পরিকল্পিত, টেকসই, বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আবাসন খাতকে এগিয়ে নিতে রিহ্যাব সবসময় সরকারের পাশে থেকে কাজ করে যাবে ।
ডক্টর আলী আফজাল
প্রেসিডেন্ট, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (REHAB)
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কৃষিবিদ গ্রুপ