ইসলামী ব্যাংক লুটপাটে চুপ্পুর ভূমিকার তদন্ত চান মোতাহার হোসেন
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন।
সম্প্রতি দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের মে মাসে রাজধানীর গুলশান কূটনৈতিক এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর এক মোটরসাইকেল আরোহীকে মারধরের ঘটনায় সাহাবুদ্দিনের নাতি আরশাদ আদনানের ছেলে জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনায় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং তার ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন আরও বলেন, সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক এবং পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অভিযোগ, ওই সময়ে এস আলম গ্রুপ ব্যাংক কোম্পানি আইনের শেয়ার ধারণ-সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আনে। তিনি দাবি করেন, এ প্রক্রিয়ায় সাহাবুদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ভূমিকা রেখেছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাহাবুদ্দিনের মালয়েশিয়ার ‘সেকেন্ড হোম’ কর্মসূচিতে বিনিয়োগ, দুবাইয়ে ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং অন্য একটি দেশের পাসপোর্ট থাকার বিষয়েও বিভিন্ন দাবি উঠে আসে।
মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অপকর্ম, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি আরও মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি কেবল দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং অন্য অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
তিনি ইসলামী ব্যাংক-সংক্রান্ত অভিযোগ এবং জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়েও যথাযথ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।