ব্যয় ও আর্থিক আয় কমার চাপে ম্যারিকোর মুনাফা ১২ শতাংশ কমেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিক্রি বেড়েছে বহুজাতিক ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের। তবে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং আর্থিক আয় কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫০০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি।
কোম্পানিটির প্রকাশিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ম্যারিকোর বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৫৩২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৫১১ কোটি টাকা থেকে প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। তবে একই সময়ে উৎপাদন ব্যয় ২২৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৬৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ফলে গ্রস মুনাফা ২৮৫ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৬৩ কোটি টাকায়।
প্রান্তিকটিতে কোম্পানির নিট আর্থিক আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ সময়ে আর্থিক আয় হয়েছে মাত্র ৪ কোটি টাকা, যেখানে এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ২১ কোটি টাকা। উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক আয়ের এই নেতিবাচক প্রভাবের কারণে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ১৯৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা থেকে কমে ১৭০ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।
এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ১২ পয়সা, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ৬১ টাকা ৭৭ পয়সা। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪৬ টাকা ১৪ পয়সা।
প্রথম প্রান্তিকের ফলাফলের পাশাপাশি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫০০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশের তথ্যও প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। ওই হিসাব বছরে ম্যারিকোর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২০৬ টাকা ৯ পয়সা, যা আগের বছরের ১৮৭ টাকা ৪৯ পয়সার তুলনায় বেশি। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৯২ টাকা ২ পয়সা।
এর আগের ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটি মোট ৩ হাজার ৮৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৫০ শতাংশ ছিল চূড়ান্ত এবং ১ হাজার ৮৯০ শতাংশ ছিল অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ। ওই বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১৮৭ টাকা ৪৯ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২৩৯ টাকা ১৩ পয়সা।
২০২৩-২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১৪৬ টাকা ২৩ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২৬০ টাকা ৬৪ পয়সা। আর ২০২২-২৩ হিসাব বছরে ৭৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করে প্রতিষ্ঠানটি। সে বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১২২ টাকা ৯৩ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১১৩ টাকা ৮৫ পয়সা।
এদিকে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল) ম্যারিকো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘এসটি-১’ বহাল রেখেছে। ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ রেটিং দেওয়া হয়েছে।
মুম্বাইভিত্তিক ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ম্যারিকো ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৯ সালে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড নামে কোম্পানিটি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভ রয়েছে ২৩৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৯০ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ২ দশমিক ১৭ শতাংশ শেয়ার।