রাজস্ব আহরণে এনবিআরের ঘাটতি ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা
আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক—তিন খাতেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ, তবু মোট রাজস্বে ১২.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা কম রাজস্ব আহরণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও শুল্ক—রাজস্বের তিন প্রধান উৎসেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি সংস্থাটি। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় মোট রাজস্ব আদায়ে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এনবিআর।
এনবিআরের প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক রাজস্ব আহরণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের জন্য সংস্থাটির সংশোধিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।
তিনটি প্রধান রাজস্ব খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়করে। এ খাতে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৬ হাজার ১১০ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। ফলে আয়কর খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।
রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে বড় উৎস ভ্যাট খাতেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি। আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ের ভ্যাট মিলিয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ১১০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। ফলে এ খাতে ঘাটতি হয়েছে ২৮ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা।
অন্যদিকে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্কসহ শুল্ক খাতে ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। ফলে এ খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।
অর্থবছরের শেষ মাস জুনেও রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি এনবিআর। জুন মাসে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৪ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। ফলে ওই মাসেই ঘাটতি হয়েছে ৬ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।
যদিও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, তবু আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আহরণ বেড়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে শুল্ক খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ, ভ্যাটে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আয়কর খাতে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ।
রাজস্ব বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি, আমদানি কমে যাওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং কর প্রশাসনের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। তাঁদের মতে, করের আওতা সম্প্রসারণ, স্বেচ্ছায় কর পরিশোধে উৎসাহ সৃষ্টি, ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং কর ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।