জাপানে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়েছে। শ্রমিক সংকট, পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ায় বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলো আর্থিক চাপে পড়ছে। দেশটির ঋণ তথ্যবিষয়ক গবেষণা সংস্থা টোকিও শোকো রিসার্চের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে জাপানে ১ হাজার ২৮টি করপোরেট প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এর আগে জুনেও দেশটিতে দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছিল।
জুলাইয়ে দেউলিয়া হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক বছরের তুলনায় দায়ের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইয়েনে, যা প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সমান।
তবে মোট ঋণের পরিমাণ এতটা বেড়ে যাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ ছিল ওসাকাভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান জেনতোশিনের পতন। প্রতিষ্ঠানটির ঋণের পরিমাণ একাই ১১৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ইয়েন।
জাপানের ব্যবসা খাতে শ্রমিক সংকট দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা হয়ে আছে। কর্মী সংকটের কারণে অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করতে পারছে না। একই সময়ে কাঁচামাল, পণ্য ও পরিচালন ব্যয় বাড়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম বাড়ানোও অনেক ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের পুরো চাপ গ্রাহকের ওপর স্থানান্তর করতে না পারায় তাদের মুনাফা কমছে এবং নগদ অর্থের সংকট তৈরি হচ্ছে।
টোকিও শোকো রিসার্চের তথ্য জাপানের করপোরেট খাতে আর্থিক চাপ বাড়ার একটি চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য শ্রমিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বড় প্রতিষ্ঠানের পতন হলে সামগ্রিক দেউলিয়া ঋণের পরিমাণ এক ধাক্কায় আরও বেড়ে যেতে পারে।
জাপান টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ব্যবসায়িক পরিবেশে ব্যয় বৃদ্ধির চাপের সঙ্গে শ্রমবাজারের সংকটও তীব্র হচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।