স্টাফ রিপোর্টার
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো সংকটের কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে আমদানিকৃত গ্যাস সরবরাহের পুরো দায়িত্ব এখন সামিট গ্রুপের একমাত্র কার্যকর টার্মিনালের ওপর নির্ভর করছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার পর্যাপ্ত এলএনজি মজুত না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনালটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। নতুন এলএনজিবাহী কার্গো দেশে পৌঁছানো পর্যন্ত টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে মোট ২১৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৫৬ কোটি ঘনফুট। এই ৫৬ কোটি ঘনফুটের পুরোটাই এসেছে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ থাকায় আবাসিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে গ্যাসের চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বড় শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাহিদা বেশি থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকারভিত্তিক সমন্বয় করতে হতে পারে।
এর আগেও গত ১৪ আগস্ট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। পরে সামিট তাদের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে পরিস্থিতি আংশিক স্বাভাবিক করে।
এবার অবশ্য যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এলএনজি কার্গোর ঘাটতিই টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার মূল কারণ। এতে আমদানিনির্ভর গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত নতুন কার্গো না এলে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নগরাঞ্চলের গ্যাস বিতরণে চাপ আরও তীব্র হতে পারে।