ফরিদ আহমেদ রনি
একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম, তারেক রহমান যেকোন মেজর ডিসিশন নেওয়ার পরে কিংবা সাকসেসের পর বাবা-মায়ের কবর জেয়ারত করতে ছুটে যান।
সিলেট দিয়ে নির্বাচনী দলীয় ক্যাম্পেইন শুরু করবার আগে কবর জেয়ারত করেছেন আবার নির্বাচনী প্রচারণার সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন কবর জেয়ারতের মাধ্যমেই।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও কার্য শুরু করেছেন বাবা-মায়ের কবর জেয়ারতের মাধ্যমে।
আজকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সংসদ থেকে বাসায় না ফিরে ছুটে গেলেন বাবা-মায়ের কবরের পাশে৷
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারকে প্রেসিডেন্ট পদে বাছাই করা এবং সিদ্ধান্তে ফিক্সড থাকা, সহজ ছিল না তার জন্য।
প্রেসিডেন্ট পদে ভেতরে-বাইরে নানা ধরনের গেইম চলছিল, যা হয়ত সাধারণ মানুষদের কাছে দৃশ্যমান হয়নি৷
ডিপ স্টেটের দেশি-বিদেশি অ্যাক্টররা চেয়েছিল, যেন একটা এপলিটিক্যাল ফিগারকে বসিয়ে দেওয়া যায়, যিনি তাদেরই পারপাস সার্ভ করবে।
বিএনপি সরকারে অতীতে প্রেসিডেন্ট পদে অভিজ্ঞতা খুবই বাজে। বিশেষ করে এপলিটিক্যাল ফিগার যখনি দিয়েছে।
সেই অভিজ্ঞতা থেকে ‘নানামুখী চাপ’ সত্ত্বেও তারেক রহমান ডিসিশন নিয়েছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তির বাইরে গিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট নমিনেশন দেবেন না।
এবং রাজনৈতিক বিশ্বস্ত সেই ব্যক্তিটি হলেন তার মহাসচিব।
বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে আজকের দিনে হয়ত-বা সবচে খুশী হতেন তার সবচেয়ে ট্রাস্টেড সহযোগীকে ছেলে প্রেসিডেন্ট বানিয়েছে – এ দৃশ্য দেখে।
বেগম জিয়াকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করার পর থেকে দলের মেজর সিদ্ধান্তগুলো মির্জা ফখরুল নিতেন। বেগম জিয়া মুক্ত আকাশে বেরিয়ে আসলেও নিজে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো স্টেইবল ছিলেন না, সবকিছুতে পাস করতেন ফখরুল সাহেবের কাছে। তার প্রতি সেই বিশ্বস্ততা বেগম জিয়ার ছিল।
মির্জা ফখরুল শুধু দলের জন্য ডেডিকেটেড নেতা ছিলেন না, একইসঙ্গে জিয়া পরিবারের একজন ট্রাস্টেড এলাইও।
গতকালকে সংসদে মির্জা ফখরুল উনার জীবনে সরকারি দলীয় শেষ মিটিংয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে সকল সহযোদ্ধাদের সামনে তারেক রহমানকে বলা শেষ বাক্যটি ছিল এমন-
‘আপনি আমার ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও সেটি বিশ্বস্ততার সহিত পালন করব।’
![]()