ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারীদের তালিকা থেকে ৫৯ লাখ অযোগ্য সুবিধাভোগীকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অযোগ্যদের বাদ দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের টিসিবির কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে টিসিবির কার্যক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর ফলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) টিসিবির কার্ডধারীদের সুবিধার জন্য ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, টিসিবির কার্ড থেকে ৫৯ লাখ অযোগ্য সুবিধাভোগীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত যেসব মানুষ সরকারের ভর্তুকি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তাদের কাছেই এ সুবিধা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে টিসিবির সুবিধাভোগীদের তালিকা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, টিসিবির কার্ড ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে বছরে প্রায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। কার্ড ও সুবিধাভোগীদের তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসায় একই ব্যক্তি একাধিকভাবে সুবিধা নেওয়া, অযোগ্য ব্যক্তির তালিকাভুক্তি এবং তথ্যের অসঙ্গতি শনাক্ত করা সহজ হবে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য টিসিবির ভর্তুকি ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর করা। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপ চালুর ফলে টিসিবির কার্ডধারীরা তাদের সুবিধা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য আরও সহজে ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ, যাচাই এবং বিতরণ কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, টিসিবির মতো ভর্তুকিনির্ভর সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করা এবং সীমিত সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫৯ লাখ অযোগ্য সুবিধাভোগী বাদ পড়ায় টিসিবির কার্ড ব্যবস্থায় বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা ভবিষ্যতে টিসিবির ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমাতেও ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।![]()