অর্থবছরের প্রথম মাসে রপ্তানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি, আয় ৪৭২ কোটি ডলার
পোশাক খাতের মাসভিত্তিক ঘুরে দাঁড়ানো সত্ত্বেও আগের বছরের তুলনায় কমেছে রপ্তানি; যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি, ভারত ও সৌদি আরবে বাড়ছে নতুন বাজার
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ কম। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে রপ্তানি আয় ছিল ৪৭৭ কোটি ৬ লাখ ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে মাসভিত্তিক কিছুটা গতি ফিরেছে। জুলাইয়ে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা আগের মাস জুনের তুলনায় ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। জুনে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।
তবে বার্ষিক হিসাবে চিত্রটি এখনো ইতিবাচক নয়। গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় তৈরি পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৯৬ কোটি ডলার। ইপিবির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ক্রেতাদের ইনভেন্টরি সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ধীরগতির প্রভাব এখনো বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
দেশভিত্তিক রপ্তানি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাই মাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ৯১ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে জার্মানি দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং যুক্তরাজ্য তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। জুলাইয়ে জার্মানিতে ৪৯ কোটি ৫৩ লাখ ডলার এবং যুক্তরাজ্যে ৪৭ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। জুলাইয়ে ভারতে রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ দুটি বাজারে প্রবৃদ্ধি নতুন বাজার সম্প্রসারণ কৌশলের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থবছরের শুরুতে সামান্য ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি উদ্বেগের হলেও মাসওয়ারি হিসাবে তৈরি পোশাক রপ্তানির পুনরুদ্ধার আগামী মাসগুলোতে সামগ্রিক রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে বৈশ্বিক ভোক্তা চাহিদা, মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রধান বাজারগুলোর আমদানি প্রবণতা আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।