অর্থ পাচার ও ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের অভিযোগে আলোচিত চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে পণ্য আমদানিতে শতভাগ মার্জিন সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য আমদানিতে এখন থেকে কোনো ধরনের আগাম অর্থ দিতে হবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পুরো অর্থায়ন করে ঋণপত্র বা এলসি খুলতে পারবে।
রোববার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের নির্দিষ্ট একটি ধারা প্রয়োগ করা হবে না।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক এস এস পাওয়ার-১ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য আমদানিতে শতভাগ মার্জিন সুবিধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন চেয়েছিল রূপালী ব্যাংক। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৩-এর সংশোধিত ২০২৩ সালের ২৭ কক(৩) ধারা থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে অব্যাহতি দিয়েছে।
আইনের ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নতুন করে ঋণ সুবিধা দিতে পারবে না। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি না হলে কিংবা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতীয়মান হলে বিশেষ অনুমোদনের ভিত্তিতে তাকে ঋণ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়ম, অর্থ পাচার ও ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত ও মামলা শুরু হয়। নতুন ঋণ সুবিধা সংকুচিত হওয়ায় গ্রুপটির অধিকাংশ ব্যবসা আর্থিক সংকটে পড়ে।
এস আলম গ্রুপের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ঋণখেলাপির তালিকায় রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের কিছু ব্যবসা এখনো চালু আছে। ভোগ্যপণ্য খাতের ব্যবসাও সীমিত পরিসরে চলছে। অর্থসংকটের কারণে এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডও খেলাপি হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য আমদানির জন্য রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলার প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রতিষ্ঠানটিকে শতভাগ মার্জিন সুবিধা দেওয়ার ফলে এলসি খোলার সময় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব অর্থ জমা দিতে হবে না। রূপালী ব্যাংকই পুরো অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে এস এস পাওয়ার-১-এর বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা এবং কয়লা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অর্থসংকট কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে খেলাপি একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সাধারণ বিধান থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন আমদানি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণশৃঙ্খলার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, এই বিশেষ সুবিধা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ফলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেড রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে শতভাগ মার্জিন সুবিধায় প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে পারবে।