কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘এএএ’, সর্বোচ্চ মান ধরে রাখল কোম্পানি
নিজস্ব প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি সর্বোচ্চ দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘এএএ’ অর্জন করেছে। একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ঋণমান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এসটি-১’। দেশের করপোরেট ঋণমান মূল্যায়নে এ দুটি রেটিং কোম্পানিটির শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি, দায় পরিশোধের সক্ষমতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক অবস্থানকে নির্দেশ করে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড (এনসিআর) এ রেটিং প্রদান করেছে।
ঋণমান মূল্যায়নে ‘এএএ’ রেটিংকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ রেটিংধারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায় পরিশোধের সক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী বলে মনে করা হয় এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেও এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণঝুঁকি তুলনামূলকভাবে খুবই কম থাকে। অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’ রেটিং কোম্পানির তাৎক্ষণিক আর্থিক দায় পরিশোধের সক্ষমতার ওপর উচ্চ আস্থার প্রতিফলন।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে পুনর্মূল্যায়িত ১ টাকা ১১ পয়সা ছিল। ফলে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
একই সময়ে কোম্পানির সম্পদভিত্তিও আরও শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৯৭ পয়সায়, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি নির্দেশ করে।
সর্বশেষ ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই বছরে কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ১৩ পয়সা, যা আগের বছরের ২ টাকা ১৫ পয়সার তুলনায় সামান্য কম। তবে একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে ২৩ টাকা ৭৯ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।
২০২৪ হিসাব বছরেও কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ১৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ২২ টাকা ৭৫ পয়সায়। এর আগের বছর ২০২৩ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। সে বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৮৯ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২১ টাকা ৬১ পয়সা।
২০২২ হিসাব বছরেও শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স। সে সময় কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৮৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছিল ২০ টাকা ৭২ পয়সায়। এর আগে ২০২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে। এছাড়া ২০২০ ও ২০১৯ হিসাব বছরেও ধারাবাহিকভাবে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত নগদ লভ্যাংশ প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের অনুমোদিত মূলধন ৬০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৪ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ ৫৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৭৬ হাজার ১১৩টি। এর মধ্যে ৩২ দশমিক ৭৪ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ শেয়ার।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সর্বোচ্চ দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান অর্জনের মাধ্যমে কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও সুশাসনের প্রতি বিনিয়োগকারী এবং অংশীজনদের আস্থা আরও জোরদার করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে ধারাবাহিক নগদ লভ্যাংশ এবং স্থিতিশীল সম্পদভিত্তি কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।![]()