কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় বাউলসম্রাট লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শনিবার শুরু হচ্ছে লালন উৎসব ও মেলা। লালন একাডেমি চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও লালনসংগীতের আসর ঘিরে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজকরা।
শনিবার বিকাল ৩টায় উদ্বোধনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের আয়োজন। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং লালন একাডেমির সভাপতি তৌহিদ বিন-হাসান।
উদ্বোধনী দিনের কর্মসূচিতে বিকাল ৫টায় থাকছে লালনসংগীতের আসর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীরা এতে লালন শাহের গান পরিবেশন করবেন।
মেলা ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লালনভক্ত, বাউলসাধক, গবেষক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শনার্থীদের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। বাউলগান, একতারার সুর এবং সাধক-অনুরাগীদের ভাববিনিময়ে মুখর হয়ে উঠবে ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ি।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুসরণ করে প্রতিবছর লালন শাহের তিরোধান দিবস উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়। বাউলসাধক ও অনুসারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। লালনের গান ও দর্শনকে কেন্দ্র করে এ আয়োজন দেশের লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
লালন শাহের দর্শনের মূল কথা মানুষের পরিচয় ও মানবিক মর্যাদা। ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার আহ্বান তাঁর গান ও সাধনায় বারবার উঠে এসেছে। প্রেম, সাম্য, আত্মঅন্বেষণ ও মানবমুক্তির দর্শন লালনের সংগীতকে কালজয়ী করেছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, লালনের মানবতাবাদী দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবারের মেলার মধ্য দিয়ে নতুন করে ছড়িয়ে পড়বে। সংগীত, সাধনা ও ভাববিনিময়ের এ আয়োজন মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনের বার্তা পৌঁছে দেবে।![]()