গণতন্ত্রে মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ থাকবেই। এগুলোই গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য। তবে প্রতিহিংসার রাজনীতি গণতন্ত্রের বিকাশকে ব্যাহত করে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল বঙ্গভবনে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এনামুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
সাক্ষাতে হাবিপ্রবি উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৬০০ কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। পাশাপাশি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রীদের আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি এসব সমস্যা সমাধানে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন। তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশের উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সাক্ষাতে উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
এদিকে একই দিন বঙ্গভবনে ঠাকুরগাঁও জেলার তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আহ্বান’-এর ৩৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। সংগঠনের আহ্বায়ক লুকমান শারীফ ও সদস্য সচিব ডা. তাহমিদ আহমেদ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি তরুণ প্রজন্ম ও সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা না গেলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। মাদকের কারণে তরুণদের সম্ভাবনাময় জীবন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মাদক নির্মূলে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জনপদকে সমৃদ্ধ করতে হলে সেখানকার মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
‘আহ্বান’-এর উদ্যোগে ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলভিত্তিক সায়েন্স ফেস্ট, প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, মেডিকেল ক্যাম্প, শীতবস্ত্র বিতরণ ও জেনজি কার্নিভালসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।
ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক উন্নয়নে তরুণদের আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়ন, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিরসন এবং সরকারি সেবা মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে তরুণ ও পেশাজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
তরুণ প্রজন্মকে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংগঠনিক জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাতে ‘আহ্বান’-এর সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তার ভূমিকার জন্য তারা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। সুন্দর, মানবিক, আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তারা।
রাষ্ট্রপতি সংগঠনটির কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করেন। উভয় সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।![]()