পরিবেশবান্ধব শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের সাশ্রয়ী অর্থায়ন দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে দুটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করেছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি বিল্ডিং অ্যান্ড গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি রিফাইন্যান্স স্কিম’ এবং ‘ডেভেলপমেন্ট অব আইসিটি রিফাইন্যান্স স্কিম’-এর আওতায় চুক্তি দুটি করা হয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের পরিচালক একেএম নুরুন্নবী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
স্কিম দুটির আওতায় মোট ২ হাজার কোটি টাকার ঘূর্ণায়মান তহবিল রয়েছে। যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে তিন থেকে ১০ বছর মেয়াদে অর্থায়ন সুবিধা পাবেন।
গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি স্কিমের আওতায় উৎপাদন খাতের উদ্যোক্তারা পরিবেশবান্ধব কারখানা ও শিল্প-স্থাপনা নির্মাণ বা উন্নয়নে অর্থায়ন নিতে পারবেন। গ্রিন বিল্ডিং স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণকারী প্রকল্পও এ সুবিধার আওতায় থাকবে।
অন্যদিকে আইসিটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা, ফিনটেক, ডেটা অ্যানালিটিকস, রোবটিকস ও স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করছে। এসব স্কিমের মাধ্যমে যোগ্য গ্রাহকদের এ ধরনের বিনিয়োগে সাশ্রয়ী অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে পারলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা, প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে আরও সক্ষম হবে।
চুক্তি দুটির মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। গ্রাহকদের গ্রিন ইনভেস্টমেন্টের সুযোগ চিহ্নিত করা এবং বিদ্যমান অর্থায়ন সুবিধা সম্পর্কে তথ্য দিতে ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স হেল্প ডেস্কও কাজ করছে।![]()