চট্টগ্রামে ইয়ামাহার বৃহৎ শোরুম চালু, বিক্রি ও সেবার সব সুবিধা এক ছাদের নিচে
চট্টগ্রামের মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে সিডিএ অ্যাভিনিউয়ের মুরাদপুরে যাত্রা শুরু করেছে ইয়ামাহার অনুমোদিত ডিলার টুয়েন্টি এইট মোটরসের নতুন শোরুম। আধুনিক নকশায় নির্মিত এই শোরুমে মোটরসাইকেল প্রদর্শনের পাশাপাশি বিক্রয়োত্তর সেবা, জেনুইন স্পেয়ার পার্টস, রাইডিং গিয়ার ও অ্যাকসেসরিজ—সব সুবিধাই মিলবে একই ছাদের নিচে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বর্ণাঢ্য আয়ো
জনের মধ্য দিয়ে শোরুমটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ছিল ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে মোটরসাইকেল র্যালি। চট্টগ্রামের সিআরবি মোড় থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি টাইগারপাস হয়ে নতুন শোরুমে এসে শেষ হয়।
পরে কেক কেটে শোরুমটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও টুয়েন্টি এইট মোটরসের স্বত্বাধিকারী তামিম ইকবাল খান এবং এসিআই মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। এ সময় এসিআই মোটরস ও ইয়ামাহার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক বাইকপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন।![]()
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তামিম ইকবাল বলেন, “ইয়ামাহা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত। এই শোরুম চালুর মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাইকপ্রেমীদের জন্য ভালো কিছু করা হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।”
এসিআই মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, “এটি আমার দেখা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইয়ামাহা ডিলার শোরুম। এখানে এলে শুধু মোটরসাইকেলপ্রেমীরাই নন, যে কারও ভালো লাগবে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা বাইক ট্যুরে আসেন, তাদেরও এখানে আমন্ত্রণ। এটি দেশের সর্বাধিক মোটরসাইকেল বিক্রির ডিলার পয়েন্ট হবে বলে আমার বিশ্বাস।”
নতুন শোরুমটিতে ইয়ামাহার জনপ্রিয় বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল প্রদর্শনের পাশাপাশি রয়েছে জেনুইন হেলমেট, রাইডিং অ্যাপারেল, ইয়ামালুব লুব্রিকেন্ট, জেনুইন স্পেয়ার পার্টস এবং অন্যান্য রাইডিং অ্যাকসেসরিজের পৃথক কর্নার। পাশাপাশি আধুনিক সার্ভিস জোনে একসঙ্গে একাধিক মোটরসাইকেলের সার্ভিসিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানরা বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করবেন।![]()
উদ্বোধনের পর অতিথি ও দর্শনার্থীরা শোরুমটি ঘুরে দেখেন। কেউ বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল ঘুরে দেখেন, কেউ বিক্রয়কর্মীদের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য নেন, আবার অনেকে আধুনিক সার্ভিস সুবিধাও পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সদরঘাট এলাকার বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী জুনায়েদ আরমান বলেন, “চট্টগ্রামে এত বড় পরিসরের মোটরসাইকেলের শোরুম আগে দেখিনি। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল ছোট ভাইকে একটি বাইক কিনে দেওয়ার। সে ইয়ামাহার ‘এফজেডএস ভি৪’ মডেলটি পছন্দ করেছে। ভাবছি এই শোরুম থেকেই বাইকটি কিনে তাকে সারপ্রাইজ দেব।![]()
সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই শোরুমটি শুধু মোটরসাইকেল বিক্রির কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং চট্টগ্রামে রাইডিং সংস্কৃতি বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এখান থেকে গ্রাহকরা মোটরসাইকেল কেনা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, রাইডিং সরঞ্জাম এবং বিক্রয়োত্তর সেবা—সবকিছুই এক জায়গা থেকে গ্রহণ করতে পারবেন।