জ্বালানি বিক্রি কমলেও শীর্ষে পদ্মা অয়েল, ডিজেলে এগিয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মোট জ্বালানি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ টন। তবে সামগ্রিক বিক্রি কমলেও বিপণনে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে পদ্মা অয়েল কোম্পানি পিএলসি। একই সময়ে ডিজেল বিক্রিতে নেতৃত্ব দিয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম, আর অকটেন ও পেট্রোল বিক্রিতে এগিয়ে রয়েছে পদ্মা অয়েল।
বিপিসি ও এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক বিক্রয় প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছয়টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি বিক্রি হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬১৩ টনে।
তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ডিজেল, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল ও কেরোসিনের বিক্রি কমেছে। তবে অকটেন এবং জেট এ-১ জ্বালানির বিক্রি বেড়েছে।
বাজার অংশীদারিত্বের দিক থেকে পদ্মা অয়েল এককভাবে বিপিসির মোট জ্বালানি বিক্রির ৪০ দশমিক ৫৩ শতাংশ দখলে রেখেছে। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের অংশ ৩৩ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং যমুনা অয়েলের অংশ ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
গত অর্থবছরে পদ্মা অয়েল ২৬ লাখ ৬৪ হাজার ৯০৫ টন জ্বালানি বিক্রি করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ হাজার টন বেশি। সামগ্রিক বাজারে জ্বালানি বিক্রি কমলেও পদ্মা অয়েল তাদের বিক্রি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুল ইসলাম বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রি বেড়েছে। একই সঙ্গে অপারেশনাল ক্ষতিও আগের বছরের তুলনায় কমেছে, যা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার জন্য ইতিবাচক।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা অয়েলের জনবল ও বিপণন নেটওয়ার্ক অন্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বড়। সেই সক্ষমতা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটির আরও বেশি জ্বালানি বিপণনের সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, ডিজেল বিক্রিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৬ টন ডিজেল বিক্রি করেছে। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় ডিজেল বিক্রির পরিমাণ বাড়িয়েছে যমুনা অয়েল। প্রতিষ্ঠানটি এক বছরে অতিরিক্ত ১৩ হাজার ২০২ টন ডিজেল বিক্রি করেছে।
সামগ্রিকভাবে জ্বালানি বিক্রি কমলেও পদ্মা অয়েলের বিক্রি বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের চাহিদা বাড়ায় দেশের জ্বালানি বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।