যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই দফা চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে আছেন ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক। পরে তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টার দিকে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় তার শরীরে পেন্টোবারবিটাল নামের প্রাণঘাতী ওষুধ দুই দফায় প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রত্যাশিত মৃত্যু না হওয়ায় দুইবারই সাক্ষীদের কক্ষের পর্দা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কারাগারে উপস্থিত সাংবাদিকদেরও সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।
পাইকের আইনজীবীরা পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে সাজা স্থগিতের আবেদন করেন। আদালতে দেওয়া আবেদনে তারা জানান, পাইক অচেতন হয়ে গেলেও তার হৃদস্পন্দন তখনো চলছিল এবং তার নাক ডাকার শব্দও শোনা যাচ্ছিল।
পরে জেলা জজ ক্লিফটন এল ককার জানান, চিকিৎসাকর্মীরা পাইকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করেছেন। এরপর তাকে কারাগার থেকে একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
১৯৯৬ সালে ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর প্রায় ৩০ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন তিনি। বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন নির্ধারিত ছিল।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের আইনজীবীরা একাধিকবার আদালতে আবেদন করেন। তাদের যুক্তি ছিল, শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাসহ তার জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়েই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ বন্ধ করেনি।
এর আগে টেনেসির গভর্নর বিল লিও পাইকের ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনও নাকচ করেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর টেনেসিতে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা ঘটত।
চলতি বছর টেনেসিতে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগে মে মাসে হত্যার দায়ে দণ্ডিত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত শিরা খুঁজে না পাওয়ায় কারা কর্মকর্তারা ওই প্রক্রিয়া বাতিল করেন।![]()