পরিচয়পত্র
রেজাউদ্দিন স্টালিন
খোয়া গেছে আমার পরিচয়পত্র
ফটোকপি থেকেও মুছে গেছে
কয়েকটি অক্ষর
কোথাও আমার পরিচয়
গৃহীত হচ্ছে না
ব্যাংক বীমা ভিসা কিংবা ভূমি অফিসে
আমার নায়কোচিত ছবি পরিচয় প্রমাণে ব্যর্থ হচ্ছে
আমার শেষ আশ্রয়
নিজের হাতের দিকে
অসহায় তাকিয়ে আছি
হঠাৎ আমার করতল থেকে
কিচিরমিচির করে উঠলো
দোয়েল কোয়েল শ্যামা শালিক
মনে হলো ওরা আমাকে চেনে
তারা দেখেছে বাংলার খাল বিল
পথে প্রান্তরে
কৈশোরে হাত দিয়ে স্পর্শ করেছি যেসব ফসলের শীষ
তারা অভিবাদনের ভঙ্গিতে
দুলে উঠলো
যেসব আম জাম কাঁঠালের গাছ
বন্ধু ছিলো-তারা এগিয়ে এলো আলিঙ্গনের জন্য
পরিচয়পত্রের জেরক্স কপির পাশে একটা কালো উল্লম্ব রেখা
সেখান থেকে বেরিয়ে এলো এক নদী কপোতাক্ষ
কতবার লিখেছি অভিমান ক্ষুব্ধ
এই অথৈ নদীর কথা
সে চিনলো আমাকে
কাঁধ সমান উঁচু হয়ে উঠলো ঢেউ- ছলাৎছল শব্দ তুলে
স্বাগত জানালো
আমার করতল অবয়ব আর পদযুগ পূর্ণ হয়ে উঠলো ভালোবাসায় ভালোবাসায়
কিন্তু আমাকে বেস্টন করে এগুতে থাকলো- ছিন্নভিন্ন খাঁখাঁ
বস্তি-নিরপরাধ
মানুষের কারাগার
হাজার হাজার মাইল সমাধিক্ষেত্র- আর লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার শ্মশান
যাদের মৃত্যুর আগে ও পরে
কোনো পরিচয়পত্র ছিলো না
এক আশ্চর্য উচ্চারণ কণ্ঠনালী ভেদ করে দিগ্বিদিকে
ছড়িয়ে পড়লো
আমার চোখ ফেটে বেরিয়ে এলো কোটি কোটি অক্ষর-
আমরা স্বাক্ষ্য দিচ্ছি তুমি
আমাদের চির চেনা
তুমি আমাদেরই লোক
পরম প্রাপ্তিতে ভরে উঠলো মন
নির্ভীক বর্ণমালা আমার অভয়
মানুষ আমার ভালোবাসা
বাংলাদেশ আমার হৃদয়
আমার আলাদা পরিচয় পত্র
দিয়ে কি হবে ![]()