বাংলাদেশে বসে দেশের ব্যবসাই করতে পারি না: মোহাম্মদ আমিরুল হক
মোহাম্মদ আমিরুল হক
সভাপতি, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি
প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত সভাপতি এবং প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে থাকা দূরত্ব। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যবসাবান্ধব নানা পরিকল্পনা ও উন্নয়নের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন সবসময় দেখা যায় না। ফলে বাংলাদেশে থেকেই দেশের ব্যবসা পরিচালনা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি দীর্ঘ ১৩ বছর পর সরাসরি ভোটে চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতৃত্বে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বলেন, চেম্বারের দায়িত্ব গ্রহণকে তিনি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং একটি বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। জন্ম চট্টগ্রাম বন্দরে, আর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্দর, লজিস্টিকস, শিপিং এবং শিল্প খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে চট্টগ্রামের অর্থনীতির বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনাই তার মূল দক্ষতার জায়গা এবং এই খাতেই সবচেয়ে বেশি কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
তিনি জানান, প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম চেম্বারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও প্রায় দেড় থেকে দুই দশক আগে ব্যবসার প্রয়োজনে চেম্বার থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিলেন। পরে পারিবারিক ব্যবসায় সময় দেন। এখন তার দুই ছেলে ব্যবসায় যুক্ত হওয়ায় তিনি আবারও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বে সক্রিয় হয়েছেন।
আমিরুল হকের মতে, অর্থনীতি পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা কী করতে চান, সে সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা মোটামুটি ধারণা পান। কিন্তু সেই নীতিগুলো নিচের স্তরে কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হলে নীতির ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বন্দর, লজিস্টিকস, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তুলতে হবে। কারণ এসব খাতের অদক্ষতা শিল্প ও বাণিজ্যের সামগ্রিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তার মতে, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম। তাই এই অঞ্চলের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা গেলে তার ইতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়বে। চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতৃত্বে থেকে ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাধানে ভূমিকা রাখতে চান তিনি।