বিকাশ মার্চেন্টদের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের ৫০ হাজার টাকার ন্যানো ঋণ
রাজধানীতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করতে বিকাশ মার্চেন্টদের জন্য ডিজিটাল ন্যানো ঋণসেবা চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এই সেবার আওতায় যোগ্য মার্চেন্টরা মাত্র এক মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারবেন। ডিজিটাল আবেদন, যাচাই, অনুমোদন এবং ঋণ বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।
সোমবার রাজধানীতে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অর্থায়নের সুযোগ: বেসরকারি খাতের জন্য আরও সহায়ক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য জানান ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) সৈয়দ আবদুল মোমেন।
তবে এ বিষয়ে পরে একটি সংশোধনী দেয় ব্র্যাক ব্যাংক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা বলা হলেও রাতে ব্যাংকটির পাঠানো সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিকাশ মার্চেন্টদের জন্য এই ন্যানো ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৫ লাখ নয়, ৫০ হাজার টাকা।
ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে সেবা চালুর পর সোমবার পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার বিকাশ মার্চেন্ট এই সুবিধা নিয়েছেন। এ সময়ে তারা মোট ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ন্যানো ঋণ গ্রহণ করেছেন।
গোলটেবিল বৈঠকে সৈয়দ আবদুল মোমেন বলেন, ব্র্যাক ব্যাংকের শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের কারণে আবেদন যাচাই, অনুমোদন এবং ঋণ বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া মাত্র এক মিনিটে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জরুরি কার্যকরী মূলধনের প্রয়োজন হলে দ্রুত অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন।
তিনি জানান, এর আগে বিকাশ তাদের গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের সহযোগিতায় ন্যানো ঋণসেবা চালু করেছিল। এবার বিকাশ মার্চেন্টদের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক এই সেবা চালু করেছে, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়ক হবে।
ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময়ের সীমাবদ্ধতাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সৈয়দ আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান এবং টেলিযোগাযোগ অপারেটরগুলোর তথ্য নিরাপদ ও নীতিমালার আওতায় আরও সহজলভ্য হলে নতুন আর্থিক পণ্য উদ্ভাবন এবং ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়লে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আরও উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য ও সেবা চালু করা যাবে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগের (ডিএফএটি) সহায়তায় আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, পিডব্লিউসি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং পার্টনার শামস জামান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের হেড অব মাল্টিন্যাশনাল হোলসেল ব্যাংকিং আন্দালিব মির্জাসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।