রিমু রোজা খোন্দকার
পরীমণির আচরণকে আমি সমর্থন করি না। একজন শিল্পীর মুখে অশালীন ভাষা, গালিগালাজ কিংবা কাউকে অপমান করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। শিল্পী হোক, সাংবাদিক হোক—সবার আগে নিজের ভাষা ও আচরণের সম্মান রাখতে হবে।
কিন্তু সাংবাদিক ভাইদের কাছেও আমার কিছু প্রশ্ন আছে।
কেন সব জায়গায় ক্যামেরা নিয়ে ছুটতে হবে? কেউ কি আপনাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে? ব্যক্তিগত পরিসর, মানুষের অস্বস্তি কিংবা সম্মতির বিষয়গুলো কি একেবারেই গুরুত্বহীন? একজন মানুষকে বিব্রত করে, তাঁর পেছনে ক্যামেরা নিয়ে ছুটে ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা কেন?
যে শিল্পী বিতর্কিত, যাঁকে ঘিরে ঝামেলা, যিনি প্রতিক্রিয়া দেখাবেন— ক্যামেরা কি শুধু তাঁদের পেছনেই ছোটে? আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কত অসাধারণ, মেধাবী, আন্ডাররেটেড শিল্পী আছেন, কত ভালো চরিত্রশিল্পী আছেন, যাঁরা নীরবে অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের কাজ নিয়ে আপনাদের এত আগ্রহ কোথায়?
শিল্পীরাও মানুষ। তাঁদেরও রাগ, অভিমান, ব্যক্তিগত সীমারেখা আছে। তবে সেই রাগ প্রকাশের ভাষা নিশ্চয়ই গালিগালাজ হতে পারে না।
আমি কাউকে অন্ধভাবে ডিফেন্ড করছি না। অন্যায় যে করবে, তার সমালোচনা হবেই। কিন্তু সাংবাদিকতার নামে কাউকে হেনস্তা করাও যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি শিল্পীর পরিচয়ে অসভ্য আচরণও গ্রহণযোগ্য নয়।
শিল্পী ও সাংবাদিক—কেউ কারও শত্রু নন। দুটো পেশাই একে অপরের পরিপূরক। একজন শিল্পী তাঁর কাজ দিয়ে সম্মান অর্জন করবেন, একজন সাংবাদিক তাঁর পেশাদারিত্ব দিয়ে।
ভাইরাল হওয়ার জন্য কারও সম্মান নষ্ট করতে হবে কেন? আর নিজের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে অন্যের সম্মান কেড়ে নিতে হবে কেন?
আমরা কি একটু সভ্য, একটু সংযত হতে পারি না?
![]()