ব্যবসার সাফল্য তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের জীবন বদলে দেয়: সায়েফ নাসির
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড
রাজু আলীম
করপোরেট নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা যখন জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন তা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। সেই পথেই এগিয়েছেন সায়েফ উদ্দিন নাসির। বহুজাতিক করপোরেট খাতে দুই দশকেরও বেশি সময় কাজ করার পর জনস্বাস্থ্যভিত্তিক সামাজিক ব্যবসার নেতৃত্ব নেওয়া সায়েফ উদ্দিন নাসিরের জীবনে নিঃসন্দেহে একটি বড় পরিবর্তন। এই সিদ্ধান্ত শুধু তাঁর পেশাগত পথই বদলায়নি, বরং দায়িত্ববোধ ও কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিরও নতুন পরিচয় দিয়েছে। ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর তিনি এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এর আগে বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে বিক্রয়, বিপণন, ব্যবসা উন্নয়ন, সাধারণ ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক রূপান্তরের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কর্মজীবনে তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, টেট্রা পাক এবং হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করা সায়েফ নাসির করপোরেট ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাকে এখন সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাসে সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির নাম একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, ওরস্যালাইন, স্বাস্থ্যবিধি এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতার মতো বহু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। কিন্তু এই কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য যে বাণিজ্যিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড। সায়েফ নাসিরের নেতৃত্ব সেই কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার প্রচেষ্টার অংশ।
তাঁর কাছে সামাজিক ব্যবসা কোনো উন্নয়নমূলক স্লোগান নয়; এটি একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে শক্তিশালীও হতে পারে। বরং একটি টেকসই ব্যবসায়িক মডেলই সামাজিক প্রভাবকে দীর্ঘস্থায়ী করে। অনুদাননির্ভর উদ্যোগ অনেক সময় প্রকল্প শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায়, কিন্তু বাজারভিত্তিক সামাজিক ব্যবসা নিজস্ব সক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে এবং একই সঙ্গে জনকল্যাণে অবদান রাখতে পারে।![]()
এই দৃষ্টিভঙ্গিই এসএমসি এন্টারপ্রাইজকে প্রচলিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের থেকে আলাদা করে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যপণ্য বিক্রি করে, কিন্তু সেই পণ্যের উদ্দেশ্য শুধু বাজার দখল নয়; বরং পরিবার পরিকল্পনা সহজলভ্য করা, নিরাপদ মাতৃত্বে সহায়তা করা, শিশুস্বাস্থ্য উন্নত করা এবং মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো। অর্থাৎ প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে একটি সামাজিক উদ্দেশ্য যুক্ত থাকে।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনায় সায়েফ নাসিরও এই বিষয়টিকেই সামনে আনেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে জনসংখ্যা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত মানুষের সক্ষমতা। একটি দেশের জনসংখ্যা তখনই সম্পদে পরিণত হয়, যখন সেই জনগোষ্ঠী সুস্থ, সচেতন এবং উৎপাদনশীল হয়। আর এই প্রক্রিয়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যপণ্য ও স্বাস্থ্যসেবার সহজ প্রাপ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি মনে করেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্য খাতে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তার পেছনে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক বিপণনেরও বড় অবদান রয়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, ওরস্যালাইনের ব্যাপক ব্যবহার, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যপণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক বিপণন একটি কার্যকর মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে তাঁর মতে, অতীতের সাফল্য ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নয়। বাংলাদেশের জনসংখ্যার কাঠামো বদলাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের জীবনধারা পরিবর্তিত হচ্ছে, প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে স্বাস্থ্য যোগাযোগ এবং স্বাস্থ্যপণ্য বিপণনের কৌশলও পরিবর্তন করতে হবে। বর্তমান প্রজন্ম টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের চেয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় ব্যয় করে। তারা তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন উৎস থেকে। তাই স্বাস্থ্যসচেতনতার ভাষা ও মাধ্যম—দুটিই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
সায়েফ নাসিরের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তি স্বাস্থ্য খাতে একদিকে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করেছে। ভুল তথ্য এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত ছড়ায়। ফলে স্বাস্থ্যপণ্য কিংবা যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য মানুষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক, যাচাইকৃত এবং সহজবোধ্য তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন।
স্বাস্থ্যপণ্যের বাজারে আস্থা তৈরির বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, একজন ভোক্তা যখন একটি স্বাস্থ্যপণ্য কিনছেন, তখন তিনি শুধু একটি ব্র্যান্ড নয়, একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেও মূল্যায়ন করছেন। সেই কারণে উৎপাদন, মাননিয়ন্ত্রণ, সরবরাহব্যবস্থা এবং বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা জরুরি। মানুষের আস্থা হারালে স্বাস্থ্যপণ্যের বাজারে ফিরে আসা অত্যন্ত কঠিন।![]()
করপোরেট জগতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শিখেছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব নির্ভর করে শুধু বিক্রির ওপর নয়; নির্ভর করে সুশাসন, দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর। এসএমসি এন্টারপ্রাইজের নেতৃত্বে এসে তিনি সেই একই দর্শন প্রয়োগ করতে চান—যেখানে ব্যবসায়িক দক্ষতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একই লক্ষ্য অর্জনের দুটি পরিপূরক উপাদান।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সাফল্য এবং সামাজিক প্রভাবকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার যে ধারণা সায়েফ নাসির তুলে ধরেন, তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় এসএমসি এন্টারপ্রাইজের কার্যক্রমে। প্রতিষ্ঠানটি শুধু স্বাস্থ্যপণ্য বাজারজাত করে না; বরং একটি বিস্তৃত সরবরাহব্যবস্থা, গবেষণাভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ এবং মাননিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখার চেষ্টা করে। তাঁর মতে, একটি স্বাস্থ্যপণ্যের মূল্য শুধু বিক্রির পরিমাণে নির্ধারিত হয় না; বরং সেটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাত গত পাঁচ দশকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর উচ্চ জন্মহার, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু এবং সংক্রামক রোগ ছিল দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ধারাবাহিক সরকারি উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা এবং সামাজিক বিপণন কর্মসূচির ফলে এসব সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। পরিবার পরিকল্পনার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে, নিরাপদ মাতৃত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, ওরস্যালাইনের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী একটি সফল উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধিও বিস্তৃত হয়েছে। সায়েফ নাসির মনে করেন, এই অর্জনগুলোকে ধরে রাখতে হলে স্বাস্থ্যপণ্য সরবরাহব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে হবে।
তিনি প্রায়ই উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আস্থা একটি অদৃশ্য সম্পদ। একটি ব্র্যান্ড বহু বছর ধরে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করলেও সেই বিশ্বাস ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগ করতে হয়। পণ্যের গুণগত মান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিমালা মেনে চলা এবং ভোক্তার অভিযোগ দ্রুত সমাধান করা—এসবই একটি স্বাস্থ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের অপরিহার্য দায়িত্ব। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।
এসএমসি এন্টারপ্রাইজের নেতৃত্ব গ্রহণের পর সায়েফ নাসির প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা বিশ্লেষণ, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো তাঁর অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে শুধু ভালো পণ্য থাকলেই হয় না; সঠিক সময়ে সঠিক পণ্য সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতাও থাকতে হয়।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনায় তিনি যে বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন, তা হলো বাংলাদেশের জনমিতিক বাস্তবতা। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখন কর্মক্ষম বয়সের। এই জনগোষ্ঠীকে দক্ষ, সুস্থ এবং উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে জনমিতিক সুবিধা অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নেবে না। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য—এসবকে আলাদা খাত হিসেবে নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
তাঁর বক্তব্যে তরুণদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণও স্পষ্ট। বর্তমান প্রজন্মের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন, তথ্য গ্রহণের উৎস এবং জীবনযাত্রা আগের প্রজন্মের তুলনায় ভিন্ন। তাই স্বাস্থ্যবিষয়ক যোগাযোগও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যসেবাকে তিনি ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, তথ্যের প্রাচুর্যের যুগে ভুল তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই নির্ভুল, বৈজ্ঞানিক এবং সহজবোধ্য স্বাস্থ্যতথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
![]()
সায়েফ নাসিরের নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো অংশীদারিত্বের ওপর তাঁর জোর। তাঁর বিশ্বাস, বাংলাদেশের মতো দেশে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন কেবল সরকারের একক দায়িত্ব হতে পারে না। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম—সবাইকে একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই স্বাস্থ্যসেবা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহজলভ্য এবং টেকসই হতে পারে।
ব্যবসায়িক নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রায়ই একটি বিষয় উল্লেখ করেন—দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য কখনোই স্বল্পমেয়াদি মুনাফার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তৈরি হয় সুশাসন, নৈতিকতা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং মানুষের বিশ্বাসের ওপর। এই কারণেই তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নেতৃত্ব বিকাশ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাকে সমান গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার মানুষ।
আগামী দিনের বাংলাদেশকে সামনে রেখে সায়েফ নাসিরের দৃষ্টিভঙ্গি আশাবাদী। তিনি মনে করেন, স্বাস্থ্যপণ্য উৎপাদন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, উদ্ভাবন এবং সামাজিক ব্যবসার সমন্বয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এজন্য গবেষণায় বিনিয়োগ, স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার প্রতি ধারাবাহিক অঙ্গীকার প্রয়োজন।![]()
তাঁর পেশাজীবনের পথচলা একটি বিষয় স্পষ্ট করে—তিনি করপোরেট ব্যবস্থাপনাকে কেবল ব্যবসায়িক ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন না। তাঁর কাছে নেতৃত্বের অর্থ হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা আর্থিকভাবে সফল হওয়ার পাশাপাশি সমাজের জন্যও স্থায়ী মূল্য সৃষ্টি করে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক ব্যবসার দর্শনের এই সমন্বয়ই তাঁকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের করপোরেট নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য মুখ হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন জনস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসচেতনতার মতো বিষয়গুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সায়েফ নাসির বিশ্বাস করেন, এই যাত্রায় সামাজিক ব্যবসা কেবল একটি বিকল্প মডেল নয়; বরং টেকসই উন্নয়নের একটি কার্যকর ভিত্তি। মানুষের আস্থা, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যপণ্য, উদ্ভাবন এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব—এই চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই তিনি এসএমসি এন্টারপ্রাইজের আগামী দিনের পথচলা দেখতে চান।