অবশ্যই। নিচে ছয়টি সংবাদ আলাদা করে, সংবাদপত্রের উপযোগী ভাষায় বিস্তৃত করে দিলাম। সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য মিলিয়ে লেখা হয়েছে।
জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে সরবরাহ বাড়ায় দেশের শিল্প-কারখানাগুলোতে গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়েছে। রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকাতেও সরবরাহ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। ব্যবসায়ী নেতারা আশা করছেন, দ্রুতই অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, জাতীয় সঞ্চালন পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে শিল্প-কারখানায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। আগের দিন একই সময়ে সরবরাহের পরিমাণ ছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বেড়েছে ২৬ কোটির বেশি ঘনফুট।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। এতে সময়মতো উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি জানতে কারখানা মালিকদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জোনে গ্যাস সরবরাহে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। সেখানে আগের তুলনায় অনেক ভালো চাপে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঢাকা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে তখনো সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
গাজীপুরের শিল্পকারখানায় তখনো গ্যাসের চাপ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও মোশারফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন। তবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বৃদ্ধির যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন তিনি।
এর আগে শিল্পে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। শিল্প খাতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, সাময়িকভাবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের জন্য স্থিতিশীল গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ উৎপাদন পরিকল্পনা, রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত—সবকিছুর সঙ্গেই জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা সরাসরি যুক্ত। গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরলে শিল্প উৎপাদনে গতি ফেরার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের উদ্বেগও অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
![]()