‘যৌনতা মন্ত্রণালয়’ বা ‘মিনিস্ট্রি অব সেক্স’—এমন অভিনব একটি মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল আর্মেনিয়ার পার্লামেন্ট। আইনপ্রণেতাদের মধ্যে রীতিমতো কিল-ঘুষি, লাথি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির এক ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত দেশটির বিরোধী দল ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া পার্টি’-এর একটি অদ্ভুত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে। দলটির ঘোষণা ছিল, তারা ক্ষমতায় এলে দেশে যেন ‘কোনো অসন্তুষ্ট নারী না থাকে’, তা নিশ্চিত করতে একটি নতুন ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ খুলবে। তাদের অদ্ভুত যুক্তি ছিল—যৌন অসন্তোষের কারণেই মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গ নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়ে যায়!
গত বৃহস্পতিবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে এই প্রস্তাব নিয়েই তুমুল বিতর্কের সূচনা হয়। ক্ষমতাসীন ‘সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টি’-র সংসদ সদস্য তারন চাখোয়ান বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আকণ্ঠ দুর্নীতিতে ডুবে থাকা এই দলটির নেতার উচিত নারীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। তিনি স্ট্রং আর্মেনিয়ার নেতা নারেক কারাপেতিয়ানকে ‘আপাদমস্তক ঝামেলা’ বলে কটাক্ষ করতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মুহূর্তের মধ্যেই বিরোধী এমপিরা আসন ছেড়ে চাখোয়ানের ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। এরপরই শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী হাতাহাতি। পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ভাহাগন আলেকসানিয়ানকে দেখা যায় বিরোধীদের দিকে আস্ত একটি চেয়ার ছুড়ে মারতে। অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় এমপি গার্নিক দাভতিয়ানের গায়ে পানি ছিটিয়ে দেন চাখোয়ান। মুহুর্মুহু বোতল নিক্ষেপ আর টেবিল ভাঙচুরের শব্দে পার্লামেন্ট হয়ে ওঠে রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র।
মজার ব্যাপার হলো, এই মারামারির পর আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমি সহিংসতার নিন্দা করি, তবে আজ আমার দল যে ব্যবস্থা নিয়েছে আমি তাকে সমর্থন করি। বিরোধী দলে থাকার মানে এই নয় যে কেউ উদ্ধত আচরণ করবে। চেয়ার ছুড়ে মারা হোক বা অন্যকিছু, এটি একেবারেই সঠিক কাজ ছিল।” এমনকি ফেসবুকেও তিনি কৌতুক করে লেখেন, বিরোধী দলের নাম ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ হলেও শারীরিকভাবে তারা মোটেও শক্তিশালী নন!
প্রধানমন্ত্রীর সেই পোস্টে মন্তব্য করে চাখোয়ান লেখেন, “তারা মারামারি শুরু করে আবার পালিয়েও যায়!” পরে অবশ্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে সংঘাত উসকে দিয়ে কেউ মার না খেয়ে পালাতে পারে না।
অন্যদিকে, এই মারামারিকে বেশ গর্বের সঙ্গেই সমর্থন করেছেন বিরোধী নেতা কারাপেতিয়ান। একে ‘খাঁটি আর্মেনীয় ধাঁচের পুরুষে-পুরুষে স্বাভাবিক লড়াই’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “যারা মাসের পর মাস আমাদের অতিষ্ঠ করেছিল, তারা আজ একদম কড়া জবাব পেয়েছে।”
মারামারি যখন তুঙ্গে, তখন স্পিকার প্রথমে অধিবেশন মুলতবি করতে রাজি হননি, যাতে দেশবাসী এই দৃশ্য সরাসরি দেখতে পারে! তবে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় শেষমেশ তিনি বিরতি টানতে বাধ্য হন। যদিও বিরতির পরও করিডোরে হাতাহাতি চলতে থাকে, যা থামাতে নিরাপত্তাকর্মীদের মানবপ্রাচীর গড়তে হয়। ছেঁড়া জামাকাপড় আর আঘাত নিয়ে অনেককেই চেম্বার ছাড়তে দেখা যায়। এত কিছুর পরও দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই।
এদিকে, একই দিন আলবেনিয়ার পার্লামেন্টেও ভিন্ন এক ইস্যুতে তুমুল হট্টগোল দেখা গেছে। বিতর্কিত এক রিসোর্ট প্রকল্প ও দুর্নীতির প্রতিবাদে চলা ‘ফ্লেমিংগো আন্দোলন’-এর জেরে সেখানে বিরোধী এমপিরা স্মোক বোমা ফাটান। প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগের দাবিতে তারা ডায়াস অবরুদ্ধ করে রাখলে সেখানেও এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃ
ষ্টি হয়।