নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ৫ হাজার ২২৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক পুনর্নির্মাণ ও মেরামতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এসব সড়কে থাকা সাত হাজার মিটার ব্রিজ ও কালভার্টও পুনর্নির্মাণ ও মেরামত করা হবে।
গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন করা হবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি সড়ক ও সেতুর স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং যানবাহন চলাচল নিরাপদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
প্রকল্পটির আওতায় গ্রামীণ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে থাকা ব্রিজ ও কালভার্টেরও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর ফলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল থাকবে এবং দুর্যোগের পর দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের চলাচলে যে ভোগান্তি তৈরি হয়, তা কমানো সম্ভব হবে।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে গ্রামীণ পর্যায়ে সড়ক ও সেতুসহ অবকাঠামো উন্নয়নের এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে দেশের গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে।
এদিকে গতকালের একনেক সভায় মোট ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি নতুন এবং চারটি সংশোধিত প্রকল্প। অনুমোদিত মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন রয়েছে ৮ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। বাকি ৮৪৫ কোটি টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ এবং ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ। এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সেতুগুলোর আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে লালমনিরহাট সদর উপজেলাকে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ। স্থানীয় সরকার বিভাগের আরেকটি প্রকল্পে গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণের উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে।
এছাড়া জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্পও একনেকে অনুমোদন পেয়েছে।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এর আগে অনুমোদন করা ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও নয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করেন।![]()