নিজস্ব প্রতিবেদক
মহাসড়কে দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত ও টহল জোরদারে ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স এবং ১২০টি মোটরসাইকেল যুক্ত করেছে সরকার। নতুন বহরে রয়েছে ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স ও ৮০টি হাইওয়ে প্যাট্রলিং মোটরসাইকেল।
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় এসব যানবাহন যুক্ত করা হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন বহরের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। চালক ও পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
তিনি জানান, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আধুনিক নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশের বাজার স্থানান্তর, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে ডাইভারশন নির্মাণ এবং উন্নত সাইনেজ ও রোড মার্কিং স্থাপনের কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত গতি ও চালকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতিকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় হেলপার থেকে চালক হওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
জরুরি চিকিৎসাসেবার অংশ হিসেবে জয়দেবপুর-রংপুর, হাটিকুমরুল-রাজশাহী এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর একটি করে অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্রমা সেন্টারগুলো পুনরায় চালু এবং মহাসড়কসংলগ্ন হাসপাতালগুলোতে পৃথক ট্রমা ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, মানুষের জীবন রক্ষায় নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে অবকাঠামো উন্নয়ন, আইন প্রয়োগ ও জরুরি সেবাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।![]()