বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার ‘এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন রিফাইন্যান্স স্কিমে’ যুক্ত হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চুক্তি করেছে ব্যাংকটি।
সম্প্রতি ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক একেএম নুরুন্নবী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে চালু করা এ তহবিলের মূল লক্ষ্য ‘রফতানি নীতি ২০২৪-২৭’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা। প্রচলিত রফতানি পণ্যের বাইরে নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতের বিকাশে অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় কাঁচামালনির্ভর শিল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে এ স্কিমে।
এছাড়া নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজারের ওপর বাংলাদেশের রফতানি নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করাও স্কিমটির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে নতুন রফতানি খাতের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতায় ব্র্যাক ব্যাংক রফতানিমুখী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে তিন বছর মেয়াদে অর্থায়ন করতে পারবে। ঋণের মেয়াদের প্রথম ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
চুক্তি সম্পর্কে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘এ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার মাধ্যমে রফতানিকারকদের সহজ শর্তে ও কম খরচে অর্থায়ন করা সম্ভব হবে। এতে প্রথাগত পণ্যের বাইরে নতুন পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার তৈরির সুযোগ বাড়বে ও দেশের সামগ্রিক রফতানি খাত সমৃদ্ধ হবে।’
তিনি বলেন, রফতানি বহুমুখীকরণে সহায়তার মাধ্যমে এ স্কিম দেশের অর্থনৈতিক সহনশীলতা জোরদার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। যোগ্য রফতানিকারকদের এ সুবিধা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের রফতানি আয়ের বড় অংশ এখনো সীমিত কয়েকটি পণ্য ও বাজারনির্ভর। ফলে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার পরিবর্তন, বাণিজ্যনীতি বা কোনো নির্দিষ্ট বাজারে অস্থিরতার প্রভাব দেশের রফতানি খাতে দ্রুত পড়তে পারে। নতুন খাত ও বাজারে রফতানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।![]()