মাসরুর আরেফিন
এই পৃথিবীর শান্ত-স্থিত একখানা রূপ অবশ্যই আছে,
ন‘ তলার বারান্দা থেকে পৃথিবীকে দেখে
এই কথা মনে হলো—ভোরেরবেলায়,
যদিও ইউটিউবে দেখি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পোড়ে আগুনের হাতে,
সেইসাথে সুদানের ঘরবাড়ি
একাদিক্রমে—
তবু ভাল লাগলো এইখানে ঘনসবুজ আমগাছের ডাল,
আর টিয়াদের ওড়া,
সম্ভবত খিদে নয় আনন্দ-উড্ডয়ন সেটা ভোরবেলা,
এবং বনানীর লেকে পা দিয়ে
জলের দ্বিধাকরণ করে
শরীর দোলাচ্ছে এক লোক—
তার মানে আগুনের ভয় তার নেই,
তার মানে সুদান-অতিরিক্ত পৃথিবী
ইউটিউবের বাইরে রয়েছে,
তাই আপনার হঠাৎ মনে হবে—
এ জীবনের কোনো অর্থ অবশ্যই আছে,
মানে পৃথিবীর শান্ত-স্থিত একখানা রূপ—
দীর্ণ বিদারিত গুঁড়োগুঁড়ো নয়।
যদিও ততক্ষণে আমার পায়ে ঝিঁঝি,
ততক্ষণে এ বাসার সকল বাথরুমে
অবিরল জলের শব্দ কলকল,
কিন্তু যেই-না বনানী লেকের পানি থেকে
পা উঠিয়ে নিলো সেই লোক
তখুনি মনে হলো (এ জন্যই এ কবিতা লেখা)—
পুরোটা নিয়ে দুশ্চিন্তার এত কিছু নেই
কারণ…সত্যি নয় কিছু—
এটা ঈশ্বরের জাস্ট এক পাইলট প্রজেক্ট চলে
পৃথিবীকে নিয়ে,
যার স্যাম্পল সাইজে
সুদান ঢুকে গেছে আর আমাদের দেশও…
তাই বাথরুমে পানি থাকা ভালো,
যেহেতু আগুনে বিশ্বাস নেই;
যেহেতু মাহফুজ আলম (আমার বন্ধুপ্রতিম তিনি)
বলছেন এ-পৃথিবীতে নতুন বন্দোবস্ত নিয়ে কথা,
আর যেহেতু ওরকমটা হওয়া
টিয়াপাখি-আমগাছ-সন্তানের মায়া
ইত্যাদি বেড় দিয়েই টেস্ট প্রজেক্টের পার্ট!
—শুধু আমাদেরকে, শ্রীচরণকমলেষু,
ওইটুকু দিন যেন স্রেফ বেঁচে থাকতে পারি!
![]()