দেশজুড়ে শক্তিশালী ও নির্বিঘ্ন ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ‘এক বাংলাদেশ, এক ইন্টারনেট’ চালু করেছে গ্রামীণফোন। উদ্যোগটির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকদের দ্রুতগতির ইন্টারনেট, ভিডিও স্ট্রিমিংসহ ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহারে আরও স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গ্রামীণফোনের উদ্যোগটির মূল ধারণা হলো, একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত ইন্টারনেট অবকাঠামোর মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় কনটেন্ট, ডিজিটাল সেবা ও অনলাইন অভিজ্ঞতা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে ভিডিওনির্ভর ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ায় দ্রুত ও নির্বিঘ্ন ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ জন্য গ্রামীণফোন তার বিস্তৃত লোকাল ক্যাশিং অবকাঠামো ব্যবহার করছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বহুল ব্যবহৃত অনলাইন কনটেন্ট গ্রাহকদের কাছাকাছি সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা যায়। ফলে প্রতিবার দূরের বৈশ্বিক সার্ভার থেকে কনটেন্ট আনার প্রয়োজন কমে আসে। এতে ডেটা পরিবহনের পথ ছোট হওয়ায় ভিডিও দ্রুত চালু হওয়া এবং কনটেন্ট লোড হওয়ার সময়ও কমে আসে।
গ্রামীণফোন জানিয়েছে, তাদের নেটওয়ার্কে একটি ভিডিওর প্রথম ডেটা মাত্র ৫৫ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে লোড হওয়া শুরু করতে পারে। লাইভ ভিডিও দেখা, ভিডিওতে সামনে এগিয়ে যাওয়া কিংবা পরবর্তী পর্ব চালুর মতো কাজেও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট অভিজ্ঞতায় এই প্রতিক্রিয়াশীলতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
গ্রামীণফোনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন তাদের নেটওয়ার্কে প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার ঘণ্টা ভিডিও স্ট্রিম করা হয়। একটানা হিসাব করলে এই সময় প্রায় ৪০ বছরের সমান। বিপুল এই ডেটা ব্যবহারের চাপ সামাল দিতে নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অবকাঠামোতেও বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কে ৭০০ মেগাহার্টজ ও ২ হাজার ৬০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম রয়েছে। দেশজুড়ে ২৪ হাজারের বেশি টাওয়ারের পাশাপাশি নেটওয়ার্ক সক্ষমতা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের শক্তিশালী ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়াই ‘এক বাংলাদেশ, এক ইন্টারনেট’ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, ভিডিও ও অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। তাই শুধু ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করাই নয়, গ্রাহকরা কীভাবে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সেই সংযোগ ব্যবহার করছেন, সেটিও এখন নেটওয়ার্ক সেবার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সেই অভিজ্ঞতা উন্নত করতেই গ্রামীণফোন নেটওয়ার্ক, লোকাল ক্যাশিং ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।![]()