এশিয়ার প্রধান চাল রফতানিকারক দেশগুলোতে চালের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ভারতের সরবরাহ সংকট ও আফ্রিকান দেশগুলোর শক্তিশালী চাহিদার পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদন নিয়ে আবহাওয়াজনিত শঙ্কা বিশ্ববাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি টন ৩৫৮–৩৬৪ ডলার থেকে বেড়ে ৩৬২–৩৬৮ ডলারে উঠেছে, যা প্রায় এক বছরের সর্বোচ্চ। একই সময়ে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত আতপ চালের দাম দাঁড়িয়েছে ৩৫৯–৩৬৪ ডলার। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেনিনসহ কয়েকটি আফ্রিকান দেশ থেকে ধারাবাহিক ক্রয়াদেশ ভারতের বাজারকে শক্তিশালী করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভারতের মোট চাল রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণ চালের রফতানি বৃদ্ধির ফলে বাসমতী চালের রফতানিতে সৃষ্ট ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে গেছে, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক অস্থিরতায় উপসাগরীয় বাজারে বাসমতীর চালান কমেছে।
ভিয়েতনামেও টানা তিন সপ্তাহ ধরে চালের দাম বাড়ছে। দেশটির ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের মূল্য এখন প্রতি টন ৪৩৫–৪৫৫ ডলার। তীব্র তাপপ্রবাহ ও এল নিনোর প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় কৃষক ও রফতানিকারকদের সুরক্ষায় সুগন্ধি চাল ও ধানের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির ফুড অ্যাসোসিয়েশন।
থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দামও বেড়ে প্রতি টন ৪৫০–৪৫৫ ডলারে পৌঁছেছে। মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের বাড়তি আমদানি এবং সম্ভাব্য উৎপাদন হ্রাস এ দরবৃদ্ধির প্রধান কারণ। ব্যবসায়ীদের ধারণা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার থাইল্যান্ডে ধান উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ টন কমতে পারে। তবে দেশটি ২০২৬ সালে ৭০ লাখ টন চাল রফতানির লক্ষ্যমাত্রা বহাল রেখেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আমদানিনির্ভর দেশগুলোর খাদ্য ব্যয় বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।![]()