উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি নানা সংকটে পড়েছিল উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে জাতীয় গ্রিডে আরও ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শনিবার বগুড়ার একটি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার উন্নয়ন: প্রেক্ষিত, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, গবেষক, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চল উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। অবকাঠামো, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের দিক থেকে এ অঞ্চল প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। বর্তমান সরকার সেই বৈষম্য দূর করে উত্তরাঞ্চলকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শিল্প স্থাপন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। এ লক্ষ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থপাচার রোধ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সরকার উন্নয়নের নতুন ভিত্তি তৈরি করছে। দীর্ঘদিন অবহেলিত উত্তরাঞ্চলে এখন পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, উত্তরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে বগুড়াকে বিভাগ ঘোষণার দাবিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মতিউর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ ড. সি এম উদ্দিন। বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই। সরকারের চলমান উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।