হৃদরোগের চিকিৎসায় প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে বদলে যাচ্ছে অস্ত্রোপচারের পদ্ধতিও। প্রচলিত ওপেন হার্ট সার্জারির পাশাপাশি মিনিমালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি, বিটিং হার্ট সার্জারি ও এন্ডোস্কোপিক ভেইন হারভেস্টিংয়ের মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে স্কয়ার হাসপাতাল। এসব প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীর শরীরে কাটাছেঁড়া, ব্যথা ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
স্কয়ার হাসপাতালের কার্ডিয়াক চিকিৎসাব্যবস্থায় শুধু প্রচলিত বাইপাস সার্জারিই নয়, রোগীর শারীরিক অবস্থা ও হৃদরোগের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন আধুনিক সার্জিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু জটিল কার্ডিয়াক সার্জারিতেও মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব। হার্টের ভেতরের টিউমার অপসারণ, বিভিন্ন ধরনের ভালভ সার্জারি এবং অন্যান্য নির্বাচিত অস্ত্রোপচারেও ছোট ইনসিশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব অস্ত্রোপচারে হার্ট-লাং মেশিনের প্রয়োজন হতে পারে।
করোনারি বাইপাস সার্জারিতে পায়ের শিরা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও স্কয়ার হাসপাতালে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে শিরা সংগ্রহের জন্য পায়ে তুলনামূলক বড় কাটাছেঁড়া করতে হতো। বর্তমানে এন্ডোস্কোপিক ভেইন হারভেস্টিং পদ্ধতিতে মাত্র এক-দুই আঙুলের মতো ছোট একটি ইনসিশনের মাধ্যমে এন্ডোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে শিরা সংগ্রহ করা সম্ভব। এতে বড় কাটা দাগের পাশাপাশি ব্যথা, ক্ষত ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ভোগান্তি কমানোর সুযোগ থাকে।![]()
কার্ডিয়াক সার্জারিতে বিটিং হার্ট সার্জারিও একটি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক পদ্ধতি, যা স্কয়ার হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি ব্যবস্থার অন্যতম প্রযুক্তিগত দিক। প্রচলিত কিছু বাইপাস সার্জারিতে হার্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে হার্ট-লাং মেশিনের মাধ্যমে শরীরে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। বিটিং হার্ট পদ্ধতিতে হার্ট স্বাভাবিকভাবে চলমান রেখেই নির্দিষ্ট অংশে অস্ত্রোপচার করা যায়। বিশেষ স্ট্যাবিলাইজারের মাধ্যমে বাইপাস করার অংশটি স্থির রাখা হয়। ফলে পুরো হার্ট চলমান থাকলেও সার্জারির নির্দিষ্ট জায়গায় প্রয়োজনীয় স্থিরতা তৈরি করা সম্ভব হয়।
স্কয়ার হাসপাতালে মিনিমালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারির ক্ষেত্রে রোগী নির্বাচনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার সময় শরীরে যতটা সম্ভব কম কাটাছেঁড়া করা। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে এ ধরনের সার্জারি প্রযোজ্য নয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা, হৃদরোগের ধরন, ব্লকের অবস্থান, রক্তনালির গঠন, অ্যাওর্টার অবস্থা এবং অন্যান্য ক্লিনিক্যাল বিষয় বিবেচনা করে অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।
নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তিন থেকে চারটি পর্যন্ত গ্রাফট দেওয়ার সুযোগও থাকতে পারে। তবে গ্রাফটের সংখ্যা নির্ভর করে রোগীর ব্লকের অবস্থান, রক্তনালির গঠন এবং সার্বিক শারীরিক অবস্থার ওপর। ফলে প্রতিটি রোগীর জন্য একই ধরনের সার্জারি প্রয়োগ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচন করা হয়।
আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসায় সার্জারির পাশাপাশি ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজির গুরুত্বও বাড়ছে। স্কয়ার হাসপাতালের ক্যাথল্যাবের মাধ্যমে করোনারি এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিংসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা করা হচ্ছে। ইন্টারভেনশনাল ও নন-ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজির পাশাপাশি কার্ডিয়াক সার্জারির সমন্বিত চিকিৎসা সুবিধা থাকায় রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।
হৃদরোগ শনাক্তকরণেও স্কয়ার হাসপাতালে বিভিন্ন আধুনিক পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী করোনারি এনজিওগ্রামের মাধ্যমে রক্তনালিতে ব্লক রয়েছে কিনা তা নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনাও করা সম্ভব।
হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুকের মাঝখানে চাপ বা চেপে ধরার মতো ব্যথা, হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। স্কয়ার হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি হৃদরোগের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্ডিয়াক সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
আধুনিক কার্ডিয়াক চিকিৎসার জন্য শুধু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দক্ষ চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, পারফিউশনিস্ট, অ্যানেস্থেশিয়া টিমসহ প্রশিক্ষিত জনবল। স্কয়ার হাসপাতালের কার্ডিয়াক চিকিৎসায় এসব বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে, যা জটিল হৃদরোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে কার্ডিয়াক চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়লেও রোগীর সংখ্যা ও চিকিৎসার চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তির আরও বিস্তার প্রয়োজন। দেশে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো গেলে জটিল চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতাও কমানো সম্ভব। এ লক্ষ্যেই আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও সমন্বিত চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে হৃদরোগীদের চিকিৎসায় সক্ষমতা বাড়াচ্ছে স্কয়ার হাসপাতাল।
![]()