ঢাকা, ৪ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার
আজ জুলাই গণ অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি রূপা হক। পরিদর্শনকালে তিনি শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলের বিভিন্ন নথি, আন্দোলন চলাকালীন ঘটনাবলী এবং নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।![]()
জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে প্রদর্শিত শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন এবং ঐতিহাসিক প্রামাণ্যচিত্র প্রত্যক্ষ করার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রদর্শিত বিষয়বস্তু অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত অপকর্ম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকৃত চিত্র বহির্বিশ্বের অনেকের কাছেই এখনো অজানা। তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, এবং বিশেষত কূটনৈতিক অঙ্গনে এসব তথ্য সঠিকভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।![]()
পরিদর্শনকালে রূপা হক তার আদি পৈতৃক নিবাস পাবনা জেলায় জুলাই গণ অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, সার্বিক পরিস্থিতি এবং সেখানে আন্দোলন চলাকালে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন ও গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি জাদুঘরের ‘ভিজিটরস বুক’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য ও স্বাক্ষর প্রদান করেন। মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “A fascinating exploration of recent history with lessons for the future. Not for the faint hearted.” (এটি ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষণীয় উপাদান সমৃদ্ধ সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক অনন্য দলিল। দুর্বল মনের মানুষের জন্য এটি নয়।)![]()
পরিশেষে, রূপা হক জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। বৈঠকে জাদুঘরের বিদ্যমান কর্মপদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। রূপা হক ভবিষ্যতে তার নিজস্ব অবস্থান থেকে জুলাই জাদুঘরের উন্নয়ন ও সার্বিক কার্যক্রমে যথাসম্ভব সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
এ সময় তিনি গণ অভ্যুত্থানের এই ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের সকল নাগরিকের জন্য জাদুঘরটি বিনামূল্যে দর্শনের সুযোগ উন্মুক্ত রাখার পরামর্শ দেন।![]()