ঢাকা ও নিউইয়র্কের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট আগামী বছর পুনরায় চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রাজধানীর সচিবালয়ে গতকাল মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বিশেষ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা মূল্যায়ন কর্মসূচির আওতায় ‘ক্যাটাগরি-১’ মর্যাদা অর্জন করতে হবে। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ঢাকা-নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া সহজ করতে ওয়াশিংটন সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন বিমানমন্ত্রী। তিনি জানান, সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে ইতোমধ্যে চুক্তি হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে এসব বিমানের সরবরাহ প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়েও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এ কাজে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এদিকে একই দিনে বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ভারতের কাজ করার আগ্রহ, ওপেন স্কাই নীতি, এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্ট সংশোধন এবং এয়ারস্পেস ব্যবহারের চার্জসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।![]()