দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কপথ ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কই এখন সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়ক। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এই মহাসড়কে ২২৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের সব জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের মধ্যে সর্বোচ্চ।
রাজধানীর সঙ্গে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে যুক্ত করা এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা মিলেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা–ভাঙ্গা–পটুয়াখালী মহাসড়ক, যেখানে একই সময়ে ৯৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর রয়েছে ঢাকা–সিলেট–তামাবিল মহাসড়কে ৭৯টি এবং ঢাকা–বগুড়া–বাংলাবান্ধা মহাসড়কে ৬৮টি দুর্ঘটনা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক আরমানা সাবিহা হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য এই মহাসড়ক দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে অন্যান্য সড়কের তুলনায় এখানে যানবাহনের ঘনত্ব এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি দুটোই বেশি। তিনি আরও বলেন, ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং কিছু চালকের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাইদুর রহমানের ভাষ্য, কার্যকর গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও নিয়মিত নজরদারির অভাব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এর পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচলও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্ঘটনা কমাতে শুধু সড়ক সম্প্রসারণ নয়, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।
এদিকে সরকার দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সড়কের জ্যামিতিক উন্নয়ন, সাইন সিগন্যাল, রোড মার্কিং, গার্ডরেল, ডেলিনিয়েটর ও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মধ্যে রোড সেফটি আইন প্রণয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।