প্রথমার্ধে আইডিএলসির মুনাফা বেড়েছে ২৬ শতাংশ
চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) শক্তিশালী আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি। আয় বৃদ্ধি, উন্নত অ্যাসেট কোয়ালিটি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অবস্থানের কারণে এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত (কনসোলিডেটেড) কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ১৩৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।
সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে আইডিএলসির করপোরেট প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৩৭০তম সভায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৯৯ পয়সা, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৩৭ পয়সা।
আর্থিক কার্যকারিতার গুরুত্বপূর্ণ সূচকেও উন্নতি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমার্ধে বার্ষিক ভিত্তিতে রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) বেড়ে ১২ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং রিটার্ন অন অ্যাসেটস (আরওএ) বেড়ে ১ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। আইডিএলসির মতে, মূলধন ও সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহারের প্রতিফলন ঘটেছে এ উন্নতির মাধ্যমে।
একক (স্ট্যান্ডঅ্যালোন) ভিত্তিতে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। একই সময়ে ঋণ পোর্টফোলিও বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের হার (এনপিএল) ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ১১২ শতাংশ এনপিএল প্রভিশন কাভারেজ রেশিও বজায় রেখে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সতর্ক অবস্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ফান্ডিং কস্ট নিয়ন্ত্রণ, অ্যাসেট কোয়ালিটি ধরে রাখা এবং গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করাসহ আর্থিক খাতে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আইডিএলসি তার মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে সফল হয়েছে।’
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার বলেন, ‘অ্যাসেট কোয়ালিটি ধরে রাখার পাশাপাশি মুনাফায় এ প্রবৃদ্ধি আইডিএলসির ভবিষ্যৎ ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করবে।’
আইডিএলসি জানিয়েছে, তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস এবং আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ইতিবাচক অবদানও প্রথমার্ধের সামগ্রিক আর্থিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।