বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
সঠিক সংবাদের প্রয়াসে
  • হোম
  • বিশ্ব
  • বাংলাদেশ
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • নিউইয়র্ক
  • বিশ্ব
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • খেলা
  • চাকরি
  • মতামত
  • অন্যান্য
No Result
View All Result
সঠিক সংবাদের প্রয়াসে
No Result
View All Result
  • হোম
  • বিশ্ব
  • বাংলাদেশ
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • নিউইয়র্ক
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • খেলা
  • চাকরি
  • মতামত
  • অন্যান্য
প্রচ্ছদ অন্যান্য

বিশ্বকাপ মহাকাব্য: গোল, গ্ল্যামার, রাজনীতি আর মাঠের মহাযুদ্ধ

ইউএসএ বাংলা ডেস্ক - ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৪ জুন ২০২৬
in অন্যান্য, খেলা, বিশ্ব
Reading Time: 6 mins read
A A
0
বিশ্বকাপ মহাকাব্য: গোল, গ্ল্যামার, রাজনীতি আর মাঠের মহাযুদ্ধ

No photo description available.

রাজু আলীম

বিশ্বকাপের ইতিহাস শুধু ট্রফি জয়ের ইতিহাস নয়; এটি আবেগ, বিস্ময়, নাটকীয়তা ও মানুষের অদম্য স্বপ্নের ইতিহাস। এই মঞ্চ যেমন জন্ম দিয়েছে ফুটবলের অনন্য সব জাদুকরকে, তেমনি তৈরি করেছে এমন কিছু মুহূর্ত, যা সময় পেরিয়েও মানুষের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে। মাঠের উত্তেজনার বাইরে বিশ্বকাপ জড়িয়ে গেছে সংগীত, নৃত্য, চলচ্চিত্র ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির সঙ্গেও। ফলে এটি আর কেবল একটি খেলার আসর নয়; বরং পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষকে একই অনুভূতির ভেতর নিয়ে আসা এক বিশাল সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। জড়িয়ে আছে রাজনীতির জটিল বাস্তবতাও। কখনো এটি কোনো জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক হয়েছে, কখনো সামাজিক পরিবর্তনের ভাষা, আবার কখনো বিশ্বশক্তির প্রভাব বিস্তারের নীরব মঞ্চ। তাই বিশ্বকাপের প্রতিটি আসর আসলে সময়ের একেকটি জীবন্ত দলিল, যেখানে খেলা ছাড়িয়ে ধরা পড়ে সভ্যতার রূপ, মানুষের আবেগ এবং বিশ্ববাসীর সম্মিলিত স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। বিশ্বকাপের সেই বিস্তৃত ইতিহাসের উজ্জ্বল কিছু অংশ নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

সম্পর্কিত

মুগদায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাদকবিরোধী আলোচনা ও শপথ

বড়লেখা ক্রিকেট লীগের সিজন-৪ শুরু

Pelé | Biography & Wiki | VAVEL International

বিশ্বকাপের মহাতারকারা
ফুটবলের রাজা পেলে

ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে এবং বিশ্বকাপ শব্দ দুটি যেন একে অপরের পরিপূরক। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে খেলতে এসে তিনি যেভাবে বিশ্বফুটবলকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন, তা আজও রূপকথার মতো মনে হয়। ব্রাজিলের হয়ে মোট তিনটি বিশ্বকাপ জয়ী এই ফুটবলার ফুটবলকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। তার অবিশ্বাস্য গতি, নিখুঁত ড্রিবলিং এবং গোল করার সহজাত ক্ষমতা প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করত। বিশ্বকাপের মঞ্চে পেলের প্রতিটি উপস্থিতি ছিল এক একটি শৈল্পিক প্রদর্শনী, যা কোটি ভক্তকে আবিষ্ট করে রাখত। আজও ফুটবল ইতিহাসের যেকোনো আলোচনায় পেলের নাম শ্রদ্ধার সাথে সবার আগে উচ্চারিত হয়।

The rise and fall of Maradona | The Daily Star

ডিয়েগো ম্যারাডোনার একক জাদু

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে কেবল একজন মানুষের অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যের কারণে, তিনি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। সেই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার এই অধিনায়ক যেভাবে প্রায় একাই পুরো দলকে টেনে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন, তা এক অলৌকিক অধ্যায়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে তার করা ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং পাঁচজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ আজও ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে। ম্যারাডোনা কেবল একজন খেলোয়াড় ছিলেন না, তিনি ছিলেন মাঠের এক দুর্দান্ত বিদ্রোহী চরিত্র যিনি বল পায়ে জাদুকরী গল্প লিখতেন। তার সেই বাঁ পায়ের জাদু আর গতিশীল ফুটবল আজও বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

LaLiga - Barcelona: Messi wins branding battle against Massi | MARCA in English

লিওনেল মেসির মহিমান্বিত পূর্ণতা

আধুনিক ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে এসে পূর্ণতা খুঁজে পান। পুরো ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড গড়লেও একটি বিশ্বকাপ ট্রফির অভাব তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল, যা তিনি কাতারের মাটিতে দূর করেন। টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ নেতৃত্ব, ৭টি দুর্দান্ত গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনাকে এনে দেন পরম আরাধ্য সেই শিরোপা। ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তার জোড়া গোল এবং টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে অটল থাকা ছিল এক রাজকীয় পারফরম্যান্স। মেসি এই জয়ের মাধ্যমে নিজেকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে এক অনন্য ও অবিসংবাদিত উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

Cristiano Ronaldo: Soccer superstar becomes the sport's first billionaire player, says Bloomberg | CNN

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা

পর্তুগালের গোলমেশিন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার অবিশ্বাস্য শারীরিক সক্ষমতা এবং গোল করার মানসিকতা দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম খোদাই করেছেন। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য সাধারণ এক রেকর্ড গড়েছেন এই মহাতারকা। ২০০৬ থেকে শুরু করে ২০২২ বিশ্বকাপ পর্যন্ত প্রতিটি আসরেই পর্তুগালের আক্রমণভাগের মূল ভরসা ছিলেন তিনি। মাঠে তার অতিমানবীয় লাফ, নিখুঁত ফ্রি-কিক এবং পেনাল্টি বক্সের ভেতরে চিতা বাঘের মতো চপলতা ভক্তদের মুগ্ধ করেছে। ট্রফি না জিতলেও রোনালদোর এই দীর্ঘ পথচলা এবং প্রতিটি বিশ্বকাপে তার অবদান তাকে চিরকাল অমর করে রাখবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ডেভিড বেকহ্যাম
ইংল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার কেবল তার গ্ল্যামার বা হেয়ারস্টাইলের জন্য নয়, বরং ডান পায়ের জাদুকরী ক্রসিং এবং ফ্রি-কিকের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ২০০২ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে গ্রিসের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের সেই ফ্রি-কিক গোলটি ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম সেরা রূপকথা। মাঠের যেকোনো প্রান্ত থেকে নিখুঁত মাপা পাসে স্ট্রাইকারদের বল জোগান দেওয়ায় তার জুড়ি মেলা ভার ছিল। থ্রি লায়ন্সদের অধিনায়ক হিসেবে মাঠ ও মাঠের বাইরে তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী।

এখনও পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে পেলের পর সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি - জিয়ো বাংলা

 

রোনালদো নাজারিও এবং ফেনোমেনন যুগ

ব্রাজিলের ‘দ্য ফেনোমেনন’ খ্যাত রোনালদো নাজারিও ছিলেন এমন এক স্ট্রাইকার যাকে থামানো যেকোনো ডিফেন্ডার বা গোলরক্ষকের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ১৯৯৮ সালের ফাইনালে হারের ট্র্যাজেডি ভুলে ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে তিনি এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটান। পুরো টুর্নামেন্টে ৮টি গোল করে তিনি ব্রাজিলকে তাদের পঞ্চম এবং শেষ বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে জার্মানির বিরুদ্ধে ফাইনালে তার করা জোড়া গোল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হয়। গতি, শক্তি এবং গোল করার নিখুঁত ফিনিশিংয়ের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ছিলেন ব্রাজিলের এই কালজয়ী নম্বর নাইন ফুটবলার।

Premier League giants pushed hard for Zinedine Zidane but never stood a chance | MARCA

 

জিনেদিন জিদানের ফরাসি বিপ্লব

ফরাসি জাদুকর জিনেদিন জিদান ছিলেন মাঠের এক শান্ত অথচ ভয়ঙ্কর প্রতিভার নাম, যিনি বল পায়ে সুর তুলতে পারতেন। ১৯৯৮ সালের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ফাইনালে দুটি অসাধারণ হেড থেকে গোল করে ফ্রান্সকে প্রথম শিরোপা এনে দেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে প্রায় একা হাতে বুড়ো হাড়ের ভেল্কি দেখিয়ে ফ্রান্সকে আবারও ফাইনালে নিয়ে যান এই মিডফিল্ড জেনারেল। তবে সেই ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে ইতালির মারকো মাতেরাজ্জিকে ঢুঁসো মেরে লাল কার্ড দেখার ঘটনাটি ছিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় ট্র্যাজেডি। বিদায়টা বেদনাবিধুর হলেও জিদানের পায়ের কাজ এবং ফুটবল মস্তিষ্ক তাকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক বানিয়েছে।

 

Football greats praise Kylian Mbappé ahead of eventful summer 2024: "He's an unbelievable player"

 

কিলিয়ান এমবাপ্পের নতুন সূর্য

বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন কিলিয়ান এমবাপ্পে খুব অল্প বয়সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের রাজত্ব কায়েম করেছেন। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জিতে পেলের পর দ্বিতীয় তরুণ হিসেবে ফাইনালে গোল করার কীর্তি গড়েন। এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন, যা ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ছিল। যদিও সেই ম্যাচে ফ্রান্স ট্রফি জিততে পারেনি, তবে এমবাপ্পে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট নিজের করে নেন। তার অবিশ্বাস্য গতি এবং ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং প্রমাণ করে যে আগামী দিনগুলোতে বিশ্বকাপ তার ইশারাতেই চলবে।

Ricky Martin to perform today at the T20 World Cup 2026 Final at Ahmedabad | t2ONLINE

 

সুর, নৃত্য ও সেলুলয়েডের আলো
রিকি মার্টিন ও ফুটবল সঙ্গীতের বিপ্লব

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের থিম সং ‘দ্য কাপ অব লাইফ’ গেয়ে পুয়ের্তো রিকান গায়ক রিকি মার্টিন বিশ্বজুড়ে এক নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছিলেন। এই গানটি প্রকাশের পর ফুটবল বিশ্বকাপের সঙ্গীত সংস্কৃতির চেহারা চিরকালের জন্য বদলে যায় এবং এটি একটি বিশ্বব্যাপী ট্রেন্ডে পরিণত হয়। গানটির সুর এবং ‘আলে আলে আলে’ কোরাসটি স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ড্রয়িংরুম পর্যন্ত কাঁপিয়ে তুলেছিল। রিকি মার্টিনের সেই এনার্জেটিক পারফরম্যান্স ফুটবল এবং পপ মিউজিকের মধ্যে এক দারুণ যোগসূত্র তৈরি করে দেয়। আজ পর্যন্ত যতগুলো বিশ্বকাপ থিম সং তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম প্রভাববিস্তারী হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

A Flawed Homage Or An Unintentional Revival?: The Story of Waka-Waka, – The Revolver Club

 

শাকিরার ওয়াকা ওয়াকা উন্মাদনা

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কলম্বিয়ান পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা উপহার দেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা’। আফ্রিকান সংস্কৃতির ছোঁয়ায় তৈরি এই গানটি এবং এর সিগনেচার ড্যান্স স্টেপ পুরো পৃথিবীর মানুষকে এক ছন্দে নাচিয়েছিল। ইউটিউব থেকে শুরু করে সমস্ত মিউজিক প্ল্যাটফর্মে এই গানটি সর্বকালের অন্যতম সফল গান হিসেবে জায়গা করে নেয়। শাকিরা কেবল ২০১০ সালেই ক্ষান্ত হননি, ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ‘লা লা লা’ গানটি গেয়ে ভক্তদের মাত করেছিলেন। শাকিরার কণ্ঠ এবং পারফরম্যান্স বিশ্বকাপ ফুটবলকে এক অনন্য বিনোদনমূলক রূপ দিয়েছে, যা প্রতি আসরেই ভক্তরা মিস করেন।

 

El día que Shakira se comió las sobras de la comida de Pitbull, artista invitado a su concierto de Nueva York

 

পিটবুল ও জেনিফার লোপেজের যৌথ জাদু

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন পপ তারকা পিটবুল এবং জেনিফার লোপেজ তাদের যৌথ পারফরম্যান্সে আগুন জ্বালিয়েছিলেন। ব্রাজিলের সাও পাওলোর স্টেডিয়ামে ‘উই আর ওয়ান (ওলে ওলা)’ গানের মাধ্যমে তারা বিশ্ববাসীকে ফুটবলের চিরন্তন ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন। গানটিতে ল্যাটিন আমেরিকান পপ এবং ব্রাজিলের নিজস্ব বাদ্যযন্ত্রের যে মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছিল, তা ছিল শোনার মতো। জেনিফার লোপেজের গ্ল্যামার আর পিটবুলের দ্রুতগতির র‍্যাপ পরিবেশনা গ্যালারির দর্শকদের বুনো উল্লাসে ভাসিয়েছিল। এই পারফরম্যান্সটি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ইতিহাসে অন্যতম রঙিন ও প্রাণবন্ত অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

 

No photo description available.

 

ইতালিয়ান সামারের চিরন্তন আবেগ

১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের থিম সং ‘আন এস্তাতে ইতালিয়ানা’, যা বিশ্বজুড়ে ‘ইতালিয়ান সামার’ নামে পরিচিত, ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে এক গভীর আবেগ তৈরি করে। জর্জো মোরোদেরের সুরে এই গানটি গেয়েছিলেন জিয়ানা নানিনি এবং এদোয়ার্দো বেনাতো, যাদের কণ্ঠের গভীরতা সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। গানটি কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রচারণামূলক গান ছিল না, বরং এতে ছিল ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এবং জয়ের আকুলতা। আজও যখন এই গানের সুর বাজানো হয়, তখন নব্বইয়ের দশকের ফুটবল রোমাঞ্চ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, সুরের গভীরতা এবং আবেগের দিক থেকে এটিই ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ সঙ্গীত।

 

হলিউডের আলো গ্যালারির ওপরে

বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্ল্যামার কেবল মাঠ বা মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকে না, ভিআইপি গ্যালারিতে হলিউডের মেগাতারকাদের উপস্থিতিও একে বর্ণিল করে তোলে। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, টম ক্রুজ, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এবং হিউ জ্যাকম্যানের মতো অভিনেতারা বিভিন্ন সময়ে তাদের প্রিয় দলকে সমর্থন করতে মাঠে এসেছেন। ক্যামেরার লেন্স যখন মাঠের খেলা ছেড়ে গ্যালারির এই তারকাদের দিকে ঘোরে, তখন টুর্নামেন্টের উত্তেজনা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। এই তারকাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট এবং প্রতিক্রিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলকে সিনেমার পর্দার মতোই আকর্ষণীয় করে তোলে। বিনোদন দুনিয়ার এই শীর্ষ তারকাদের সংযুক্তি ফুটবল বিশ্বকাপের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

DeFato.com - Esportes

মরগান ফ্রিম্যানের মানবিক বার্তা

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা মরগান ফ্রিম্যানের উপস্থিতি ছিল এক বিরাট চমক। আল বায়ত স্টেডিয়ামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি তার সেই গম্ভীর ও জাদুকরী কণ্ঠে মানবতার ঐক্য ও বৈচিত্র্যের এক অসাধারণ বার্তা দেন। কাতারি তরুণ ঘানিম আল মুফতাহর সাথে তার সেই কথোপকথন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিল। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের বিভেদ ভুলে ফুটবল কীভাবে মানুষকে এক করতে পারে, তা তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলেন। মরগান ফ্রিম্যানের এই সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ইতিহাসকে এক অনন্য মানবিক রূপ দিয়েছিল।

Jung Kook from BTS performs 'Dreamers' at FIFA World Cup opening ceremony

জুংকুকের ড্রিমার্স এবং এশিয়ান উত্থান

কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ান পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর সর্বকনিষ্ঠ সদস্য জুংকুক ‘ড্রিমার্স’ গানটি গেয়ে এক নতুন ইতিহাস গড়েন। প্রথম কোনো এশিয়ান শিল্পী হিসেবে বিশ্বকাপের মূল থিম সং গেয়ে বিশ্বমঞ্চ মাত করেন তরুণ প্রজন্মের এই হার্টথ্রব গায়ক। কাতারি গায়ক ফাহাদ আল কুবাইসির সাথে তার যুগলবন্দী পারফরম্যান্স স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি তরুণকে আলোড়িত করেছিল। গানটির আধুনিক বিট এবং অনুপ্রেরণামূলক লিরিকস খুব দ্রুত বিলিয়ন ভিউ পার করে এক নতুন রেকর্ড তৈরি করে। জুংকুকের এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে বিশ্ব ফুটবলের সংস্কৃতিতে এশিয়ান পপ কালচার এখন কতটা প্রভাবশালী।

 

জনপ্রিয় ম্যাস্কটের ইতিকথা
উইলি: প্রথম ম্যাস্কটের জন্ম

১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অফিসিয়াল ম্যাস্কট ব্যবহারের প্রথা চালু করা হয়, যার নাম ছিল ‘উইলি’। ব্রিটিশ পতাকার জার্সি পরা এই কার্টুন সিংহটি ছিল ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় প্রতীকের এক দারুণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ রূপান্তর। উ

ইলিকে কেন্দ্র করে সে সময় প্রচুর খেলনা, টি-শার্ট এবং নানা ধরনের স্মারক তৈরি করা হয়েছিল

Willie: Inglaterra 1966 | ワールドカップ, ファンダム, ダム

যা বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সফল হয়। প্রথম ম্যাস্কট হিসেবে উইলি ফুটবল বিশ্বে এতটাই সাড়া

World Cup Willie World Cup 1966 Mascot Our beautiful Wall Art and Photo Gifts include Framed Prints, Photo Prints, Poster Prints, Canvas Prints, Jigsaw Puzzles, Metal Prints and so much more

ফেলেছিল যে, এরপর থেকে প্রতি বিশ্বকাপে ম্যাস্কট রাখা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের সাথে উইলির নামও ইতিহাসের পাতায় চিরদিনের জন্য অমর হয়ে আছে।

 

El mundo unido por un balón – Mexicanísimoজুয়ানিতো: মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী ছোঁয়া

১৯৭০ সালের মেক্সিকো

বিশ্বকাপের ম্যাস্কট ‘জুয়ানিতো’ ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিউট এবং স্মরণীয় একটি চরিত্র। মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী বিশাল হ্যাট বা সমব্রেরো পরা এবং সবুজ জার্সি পরিহিত এই ছোট ছেলেটি সবার নজর কেড়েছিল। জুয়ানিতোর সরল হাসি এবং ফুটবল পায়ের ভঙ্গি মেক্সিকান আতিথেয়তা ও ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসাকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে। টেলিভিশনে রঙিন সম্প্রচারের প্রথম বিশ্বকাপে জুয়ানিতোর রঙিন উপস্থিতি শিশুদের মাঝে ফুটবলকে দারুণ জনপ্রিয় করে তুলেছিল। ম্যাস্কটের ইতিহাসে জুয়ানিতোকে আজও অন্যতম সরল এবং সফল একটি সৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

 

 

 

নারাঞ্জিতো: স্পেনের মিষ্টি কমলালেবু

Todas las mascotas del Mundial año a año: Juanito, Naranjito, Striker... - AS.com

১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপের ম্যাস্কট ‘নারাঞ্জিতো’ ছিল একেবারেই প্রথাবিরোধী এবং সৃজনশীল এক চিন্তার ফসল। কোনো মানুষ বা প্রাণীর পরিবর্তে স্পেনের বিখ্যাত ফল কমলালেবুকে ম্যাস্কট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যার গায়ে ছিল স্পেনের জাতীয় দলের জার্সি। মুখে চওড়া হাসি আর বগলে ফুটবল নিয়ে নারাঞ্জিতো খুব দ্রুত স্পেনের মানুষের পাশাপাশি বিশ্ববাসীর মন জয় করে নেয়। এই ম্যাস্কটটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, স্পেনে এটিকে প্রধান চরিত্র করে একটি আস্ত অ্যানিমেশন কার্টুন সিরিজ তৈরি করা হয়েছিল। নারাঞ্জিতো প্রমাণ করেছিল যে একটি সাধারণ ফলও কীভাবে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের আইকন হয়ে উঠতে পারে।

 

 

Footix, the mascot of the French World C

ফুটিলা: ফ্রান্সের গর্বিত মোরগ

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের ম্যাস্কট ‘ফুটিলা’ ছিল ফ্রান্সের জাতীয় প্রতীক বা গ্যালিক মোরগের এক আধুনিক রূপ। গাঢ় নীল রঙের বডি এবং লাল ঝুঁটিওয়ালা এই মোরগটির বুকে লেখা ছিল ‘ফ্রান্স

৯৮’, যা দেখতে ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ফুটিলার ডিজাইন এতটাই নিখুঁত ও চমৎকার ছিল যে, এর স্মারক বিক্রি করে সে বছর রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়েছিল। ফরাসিদের জাতীয় অহংকার এবং ফুটবলের উৎসবমুখর পরিবেশকে ফুটিলা খুব সুন্দরভাবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করেছিল। সেই বছর ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের আনন্দের সাথে ফুটিলার সেই হাস্যোজ্জ্বল মুখটি ফরাসি ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।

 

 

 

 

FBL-WC-2014-BRAZIL-FIFA-CONGRESS

ফুলেকো: ব্রাজিলের পরিবেশবাদী বার্তা

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের ম্যাস্কট ‘ফুলেকো’ কেবল বিনোদনের জন্য ছিল না, এর পেছনে ছিল একটি গভীর সামাজিক ও পরিবেশগত সচেতনতার বার্তা। ব্রাজিলের বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী তিন-banded আর্মাডিলোর আদলে তৈরি করা হয়েছিল এই ফুলেকো চরিত্রটিকে। নীল রঙের খোলস এবং হলুদ বডির এই ম্যাস্কটটি ব্রাজিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। ফুলেকো নামটি তৈরি করা হয়েছিল পর্তুগিজ শব্দ ‘ফুটবল’ এবং ‘ইকোলজি’ বা পরিবেশবিদ্যার সংমিশ্রণে। মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার এই চমৎকার ধারণাটি বিশ্বজুড়ে পরিবেশবাদী এবং ফুটবল ভক্তদের দ্বারা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছিল।

 

 

 

 

 

 

লাইব: কাতারের উড়ন্ত জাদুকরTOPSHOT-FBL-WC-2022-MATCH01-QAT-ECU-OPENING-CEREMONY

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ম্যাস্কট ‘লাইব’ ছিল ম্যাস্কটের ইতিহাসে সবচেয়ে ভিন্নধর্মী এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এক সৃষ্টি। লাইব কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী বা মানুষ ছিল না, এটি ছিল ঐতিহ্যবাহী আরবি পোশাক গুত্রা বা মাথায় পরার স্কার্ফের একটি উড়ন্ত অ্যানিমেটেড রূপ। লাইব শব্দের অর্থ হলো ‘অত্যন্ত দক্ষ খেলোয়াড়’, এবং এর চরিত্রটিকে দেখানো হয়েছিল এমন এক জাদুকরী সত্তা হিসেবে যে সমান্তরাল এক ম্যাস্কট দুনিয়া থেকে এসেছে। কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে মেটাভার্স ও ভার্চুয়াল দুনিয়ায় লাইবের উপস্থিতি তরুণ প্রজন্মকে দারুণভাবে আকর্ষণ করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যকে আধুনিক অ্যানিমেশনের মাধ্যমে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা ছিল অনন্য।

ফুটবল মাঠের কূটনীতি ও রাজনীতি
মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী প্রচারযন্ত্র香港獨立媒體 | 墨索里尼與意大利的黑哨世界盃

১৯৩৪ সালের ইতালি বিশ্বকাপ খেলার মাঠের বাইরে রাজনীতির নোংরা আগ্রাসনের এক কালো অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। ইতালির তৎকালীন ফ্যাসিবাদী একনায়ক বেনিতো মুসোলিনি এই টুর্নামেন্টকে তার রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং আদর্শের প্রচারের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ইতালীয় দলকে যেকোনো মূল্যে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য রেফারিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং খেলোয়াড়দের ভয় দেখানো হয়েছিল। গ্যালারিতে মুসোলিনির সার্বক্ষণিক উপস্থিতি এবং তার ফ্যাসিবাদী অভিবাদন ফুটবল মাঠের খেলোয়াড়ি চেতনাকে কলঙ্কিত করেছিল। এই বিশ্বকাপটি প্রমাণ করে যে স্বৈরাচারী শাসকরা কীভাবে খেলাধুলোকে তাদের রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার মাধ্যম বানাতে পারে।

Fútbol y política. El uso del mundial ´78 por parte de la dictadura militar argentina

আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তা ও বিতর্কিত ১৯৭৮

১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ছিল দেশটির তৎকালীন নিষ্ঠুর সামরিক জান্তা প্রধান হোর্হে রাফায়েল ভিদেলার ক্ষমতা প্রদর্শনের এক মঞ্চ। দেশে তখন ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটছিল, যা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ঘোরাতে এই টুর্নামেন্ট ব্যবহার করা হয়। আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচের পেছনে পর্দার আড়ালের নানা রাজনৈতিক চাল এবং রেফারিং নিয়ে গভীর বিতর্ক রয়েছে। ফাইনালে নেদারল্যান্ডস দল আর্জেন্টিনার এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির নীরব প্রতিবাদ হিসেবে ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বয়কট করে মাঠ ছেড়ে চলে যায়। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত বিশ্বকাপ হিসেবে এই আসরটিকে গণ্য করা হয়।

Merkel Receives World Cup Final Ball

অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ফুটবল কূটনীতি

২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ফুটবলের মাধ্যমে তার দেশের এক নতুন, উদার ও বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবমূর্তি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। গ্যালারিতে সাধারণ দর্শকদের মতো বসে জার্মানি দলের প্রতিটি গোল যেভাবে তিনি মন খুলে উদযাপন করতেন, তা বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেছিল। তার এই আন্তরিক উপস্থিতি জার্মানদের মধ্যে এক নতুন ও ইতিবাচক দেশপ্রেমের জোয়ার এনেছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ড্রেসিংরুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে তার সেলফি তোলার দৃশ্যটি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। মার্কেল দেখিয়েছেন কীভাবে রাষ্ট্রপ্রধানরা ফুটবলের মাধ্যমে জনগণের আরও কাছাকাছি আসতে পারেন।

 

رئيسة كرواتيا تأسر قلوب المعجبين في نهائي كأس العالم

কলিন্ডা গ্রাবার এবং বৃষ্টির রোমান্স

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কলিন্ডা গ্রাবার-কিতারোভিচ তার অনন্য সাধারণ আচরণ দিয়ে পুরো বিশ্বের ফুটবল ভক্তদের হৃদয় জয় করে নিয়েছিলেন। কোনো ভিআইপি প্রটোকল না নিয়ে সাধারণ গ্যালারিতে বসে দেশের জার্সি গায়ে দিয়ে যেভাবে তিনি দলকে উৎসাহ দিয়েছিলেন, তা ছিল বিরল। ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে যাওয়ার পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে প্রতিটি খেলোয়াড়কে জড়িয়ে ধরে তার সান্ত্বনা দেওয়ার দৃশ্যটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে তার সেই বন্ধুত্বপূর্ণ উদযাপন প্রমাণ করেছিল যে খেলাধুলা সব রাজনৈতিক দূরত্বের ঊর্ধ্বে।

 

FBL-WC2010-AFRICA-MANDELA

নেলসন ম্যান্ডেলার বর্ণবাদবিরোধী জয়

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ আয়োজনের পেছনে দেশটির অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি বিশ্বাস করতেন যে খেলাধুলা এমন এক শক্তি যা পুরো বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে এবং বর্ণবাদের ক্ষত নিরাময় করতে পারে। ম্যান্ডেলার অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই প্রথমবারের মতো আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বকাপের বল গড়িয়েছিল, যা ছিল কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের এক বিশাল রাজনৈতিক ও সামাজিক জয়। বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও হুইলচেয়ারে করে মাঠে তার সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি স্টেডিয়ামের সবাইকে অশ্রুসিক্ত করে তুলেছিল। ম্যান্ডেলার সেই হাসি ছিল ফুটবলের মাধ্যমে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের এক ঐতিহাসিক প্রতীক।ESPN UK (@ESPNUK) on X¿Shakira de nuevo? FIFA anuncia para la Copa del Mundo 2026

শেষ বাঁশির সুর

ফুটবল বিশ্বকাপ তাই কেবল একটি ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, এটি মানুষের স্বপ্ন, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য দলিল। মাঠের সবুজ ঘাসে পেলের জাদুকরী দৌড় থেকে শুরু করে মেসির হাতে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি—প্রতিটি মুহূর্তই মানব সভ্যতার অমূল্য সম্পদ। তেমনিভাবে শাকিরার ওয়াকা ওয়াকা গানের সুর কিংবা নেলসন ম্যান্ডেলার বর্ণবাদবিরোধী লড়াই এই ফুটবলকে দিয়েছে এক অনন্য মানবিক মর্যাদা।

https://images.openai.com/static-rsc-4/tfsQvzSM9C4oRe4jZcA6WBW_O-GGKtdUCfoCfke_wGVqgwrk8jzJgai9fncCT6XZhFfkbcHJFXy8yFk5ndZIe5pPr2DY0rGeGdR1RflGW-bcjinZSYapfN4VfvunwIJOWpZkFdPG2rVpP_YyrhJHPVQdWCsontMUd41y150gVT6XAHjGNe5vi5DfR_o1PRlA?purpose=fullsize

ম্যাস্কটের রঙিন দুনিয়া আর রাজনীতির জটিল সমীকরণ মিলেই তৈরি হয় বিশ্বকাপের এই বিশাল ক্যানভাস। প্রতি চার বছর পর পর এই মহাযজ্ঞের মাধ্যমে পৃথিবী আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখে, যেখানে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হয় মানুষের ঐক্যের।

 

 

রাজু আলীম
কবি, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

 

শেয়ারTweetPin

সম্পর্কিতপোস্ট

ম্যাথু মিলার
বিশ্ব

৩ ইসরায়েলি ও দুই ফার্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

১৫ মার্চ ২০২৪
আমেরিকা প্রবাসী জায়ানের সঙ্গে বাফুফের বৈঠক
খেলা

আমেরিকা প্রবাসী জায়ানের সঙ্গে বাফুফের বৈঠক

২৬ ডিসেম্বর ২০২৪

সর্বশেষ

বিশ্বকাপ মহাকাব্য: গোল, গ্ল্যামার, রাজনীতি আর মাঠের মহাযুদ্ধ

বিশ্বকাপ মহাকাব্য: গোল, গ্ল্যামার, রাজনীতি আর মাঠের মহাযুদ্ধ

- ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৪ জুন ২০২৬
0

0

মুগদায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাদকবিরোধী আলোচনা ও শপথ

মুগদায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাদকবিরোধী আলোচনা ও শপথ

- ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
৩ জুন ২০২৬
0

0

জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান, নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ

জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান, নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ

- USA Bangla
৩ জুন ২০২৬
0

0

আশা ভোঁসলের জন্য সামান্য নিবেদন

আশা ভোঁসলের জন্য সামান্য নিবেদন

- ইউএসএ বাংলা ডেস্ক
২২ এপ্রিল ২০২৬
0

0

usa bangla logoo

সঠিক সংবাদ সবার আগে পেতে ইউ এস এ বাংলার সাথেই থাকুন!
ইউ এস এ বাংলা সারা বিশ্বে বাংলার মুখ!

Follow us on social media:

ইউএসএ বাংলা নিউজ
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : জালাল আহমেদ।
সম্পাদক : রাজু আলীম 

  • আমাদের সম্পর্কে
  • বিজ্ঞাপন
  • লিখতে চাইলে
  • যোগাযোগ

বিভাগ

  • English News
  • অন্যান্য
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • চাকরি
  • নিউইয়র্ক
  • প্রযুক্তি
  • বাংলাদেশ
  • বিনোদন
  • বিশ্ব
  • ভারত
  • মতামত
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • রাজনীতি
  • সাফল্য
  • সারাদেশ
  • সুস্বাস্থ্য

সর্বশেষ

বিশ্বকাপ মহাকাব্য: গোল, গ্ল্যামার, রাজনীতি আর মাঠের মহাযুদ্ধ

বিশ্বকাপ মহাকাব্য: গোল, গ্ল্যামার, রাজনীতি আর মাঠের মহাযুদ্ধ

৪ জুন ২০২৬
মুগদায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাদকবিরোধী আলোচনা ও শপথ

মুগদায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাদকবিরোধী আলোচনা ও শপথ

৩ জুন ২০২৬
  • আমাদের সম্পর্কে
  • বিজ্ঞাপন
  • লিখতে চাইলে
  • যোগাযোগ

© 2026 JNews - Premium WordPress news & magazine theme by Jegtheme.

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • হোম
  • বিশ্ব
  • বাংলাদেশ
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • নিউইয়র্ক
  • বিশ্ব
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • খেলা
  • চাকরি
  • মতামত
  • অন্যান্য

© 2026 JNews - Premium WordPress news & magazine theme by Jegtheme.