দেশে ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়ার মধ্যে ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও বিষয়টি জানতেন না মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। আমদানির খবর জানার পর তিনি মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং নতুন করে ইলিশ আমদানির অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ২২টি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এসব ইলিশের আমদানিমূল্য প্রায় ছয় কোটি ৯২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। আমদানি করা ইলিশের পুরোটাই ভারতের গুজরাটের ভারুচ এলাকা থেকে এসেছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। ওই চিঠির ভিত্তিতে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধের সুপারিশ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ইলিশ সমুদ্রের মাছ এবং প্রজননের জন্য নদীতে আসে। ভারতের জেলেরা সমুদ্র থেকেই বেশি ইলিশ ধরে ফেলছেন। এসব কারণেও দেশে ইলিশের মজুত কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এবার বাজারে ইলিশের সরবরাহও কম। ফলে ব্যবসায়ীদের চাপে সীমিত পরিসরে কিছু ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ নয় জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে আর কোনো ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ভারত থেকে ইলিশ আমদানির খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা শুরু হয়। মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানতে চান, এমন একটি স্পর্শকাতর পণ্য আমদানির অনুমতি কীভাবে দেওয়া হলো। পরে তিনি জানতে পারেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ অনুমতি দিয়েছেন।
এরপর আমদানি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছেন এবং মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আমদানি বন্ধের সুপারিশ জানানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে দেশে ইলিশের উৎপাদন ও আহরণ কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে, এটি উদ্বেগের বিষয়। পরিস্থিতির কারণ চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি করা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তার মতে, দুই দেশের ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসা ও মুনাফার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ইলিশ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন। ইলিশের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মাছের ক্ষেত্রে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, যে কোনো মাছ আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে মৎস্য অধিদপ্তর অনুমতি দিয়ে থাকে। ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি তারও জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর তিনি মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, মহাপরিচালক জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের চাপে সামান্য পরিমাণ ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর তিনি আর কোনো ইলিশ আমদানির অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভাষ্য, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে আর ইলিশ আসবে না।![]()