চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ডনের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় তাঁর জামিনের বিষয়ে কোনো শুনানি হয়নি।
রোববার দুপুরে পুলিশ পাহারায় আশরাফুল হক ডনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনে তাঁর জামিনের বিরোধিতা করে বলা হয়, মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্তের স্বার্থে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
সিআইডির আবেদনে বলা হয়, ডন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তাঁকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। একই সঙ্গে আবারও পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারণে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায় পুলিশ।
শুনানির সময় ডনকে আদালতের কাঠগড়ায় নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় জামিন চেয়ে কোনো আবেদন বা শুনানি হয়নি।
পরে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী ডনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর রোববারই প্রথম আদালতে হাজির করা হয় আশরাফুল হক ডনকে। এর আগে একই দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা পুরোনো অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশের পর নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আশরাফুল হক ডন অন্যতম।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তাঁর মা লতিফা হক লুসি এবং ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলে।
সালমান শাহর পরিবার ও ভক্তদের পক্ষ থেকেও তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে। পরে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
নতুন মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তে তাদের ভূমিকা এবং সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
আদালতে সিআইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। এ কারণে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। ডন দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার তদন্তে অগ্রগতি আনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।
আদালতের আদেশের পর আশরাফুল হক ডনকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
সালমান শাহ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। কয়েক দশক পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্তের আওতায় আসায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।![]()