নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আমানতকারীদের জন্য বহুল আলোচিত ‘হেয়ারকাট’ নীতি বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি গ্রাহকেরা তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নরও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না। তবে এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকায় ব্যাংকটিকে স্পষ্টভাবে সব আমানতকারীকে বিষয়টি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি গ্রাহকেরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তোলন করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে।
কেন ছিল হেয়ারকাট
গত ১৪ জানুয়ারি একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের জন্য বিশেষ পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের মুনাফা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। আন্তর্জাতিক ব্যাংক পুনর্গঠনের রীতির আলোকে নেওয়া এ ব্যবস্থাকে ‘হেয়ারকাট’ বলা হয়, যার ফলে দুই বছরের মুনাফা থেকে আমানতকারীরা বঞ্চিত হন।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। আমানতকারীদের দাবি ছিল, ব্যাংকের দুর্বল ব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
নতুন ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিকের পথে
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে ধারাবাহিকভাবে পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, হেয়ারকাট প্রত্যাহার এবং আমানতের ওপর পূর্ণ উত্তোলনের সুযোগ চালু হলে গ্রাহকদের আস্থা ফিরবে এবং ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকটির স্বাভাবিক লেনদেন আরও গতি পাবে।