১২ কেজির এলপিজির দাম ৭০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা
ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারিভাবে সরবরাহ করা ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত মাসে এ সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। ফলে আগস্ট মাসে ১২ কেজির এলপিজির দাম ৭০ টাকা বেড়েছে।
সোমবার কার্যকর হওয়া নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা, যা গত মাসে ছিল ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা। এই হার অনুযায়ী বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম কমানো হয়েছে। নতুন করে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা, যা আগে ছিল ৭৪ টাকা ৪০ পয়সা।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসেই এলপিজির মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এলপিজি উৎপাদনের প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের আন্তর্জাতিক মূল্য সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর ঘোষিত সৌদি কার্গো মূল্য (সৌদি সিপি) অনুসারে নির্ধারিত হয়। সেই মূল্যকে ভিত্তি করেই দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়।
চলতি বছরের এপ্রিলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেড়ে গেলে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি হয়। তবে জুন ও জুলাই মাসে টানা দুই দফা দাম কমানোর পর আগস্টে আবার দাম বাড়ানো হলো।
সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রেখে ৮২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যদিও বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে, ভোক্তাদের অভিযোগ—বাজারে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে। একই সময়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত সরবরাহের কারণে দেশের অনেক পরিবার রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।