টেক্সাসের ৫৪ বছর বয়সী মিশেল রিনেলা নিজের চেয়ে ২১ বছরের ছোট ব্র্যান্ডন গ্রাহামকে বিয়ে করে আলোচনায় এসেছেন। চার সন্তানের জননী মিশেলের কাছে বয়সের এই বড় ব্যবধান কোনো বাধা নয়। বরং তাঁর দাবি, ব্র্যান্ডনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি যেন ‘লটারি জিতেছেন’।
বিবাহবিচ্ছেদের পর নতুন করে ডেটিং শুরু করেছিলেন মিশেল। তখন সমবয়সী পুরুষদের সঙ্গে পরিচয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে খুব একটা সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের আচরণ তাঁর জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসই মনে হয়নি।
তরুণদের ক্ষেত্রেও শুরুতে মিশেলের আগ্রহ ছিল না। ২০ বছর বয়সী অনেক পুরুষ তাঁকে মেসেজ পাঠালেও তিনি সেসব এড়িয়ে যেতেন। এর মধ্যেই ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে অনলাইনে পরিচয় হয় ৩৩ বছর বয়সী ব্র্যান্ডনের সঙ্গে। তিনি সার্টিফায়েড পার্সোনাল ট্রেইনার এবং ট্রাক ড্রাইভার।
ব্র্যান্ডন প্রথম মেসেজ পাঠানোর পর মিশেলের মনে হয়েছিল, ‘আবার একজন ২০ বছরের যুবক! তারা কেন আমাকে মেসেজ করতেই থাকে?’ পরে তাঁর ছবি দেখে কৌতূহলী হয়ে বয়স জানতে চান মিশেল। ব্র্যান্ডনের উত্তর তাঁকে আরও আগ্রহী করে তোলে। এরপর অনলাইনের কথাবার্তা ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যায়।
প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে তীব্র আকর্ষণ তৈরি হয়। তবে শুধু শারীরিক আকর্ষণ নয়, ব্র্যান্ডনের আবেগ প্রকাশের ক্ষমতাও মিশেলকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। তাঁর কাছে ব্র্যান্ডনের এই আবেগীয় উন্মুক্ততা ছিল সম্পর্কটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
মিশেলের মতে, বয়সের ব্যবধান তাঁদের সম্পর্কে এক ধরনের আলাদা প্রাণশক্তি তৈরি করেছে। ব্র্যান্ডন তরুণ, ফিট, প্রাণবন্ত ও আনন্দপ্রিয়। অন্যদিকে মিশেল মনে করেন, তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। দুজনের জীবনযাপনের পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত তাঁদের কাছে সম্পর্কের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।
২০২১ সালে বিয়ে করেন মিশেল ও ব্র্যান্ডন। বর্তমানে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেন, ব্র্যান্ডনের ১৩ বছর বয়সী ছেলের দেখাশোনা করেন এবং দিনের শেষে একসঙ্গে সময় কাটান। বাইরে থেকে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের কৌতূহলও কম নয়। বয়সের পার্থক্য দেখে অনেকে মন্তব্য করেন, কেউ কেউ আবার কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকান।
তবে এসব মন্তব্যকে নিজেদের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে দেন না তাঁরা। বরং মিশেলের ভাষায়, মানুষের বিচার ও সমালোচনা তাঁদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যতে বয়সের ব্যবধান কীভাবে তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়টিও মিশেলের অজানা নয়। ২০ বছর পর তাঁদের দুজনের বয়সের পার্থক্য আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে—এমন বাস্তবতাও তিনি বিবেচনায় নেন। কিন্তু ভবিষ্যতের সেই হিসাব নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত নন তিনি। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্তমান সময়টিকে উপভোগ করা এবং ব্র্যান্ডনের সঙ্গে নিজের জীবন ভাগ করে নেওয়া।![]()