
রাজু আলীম
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ চলে গেলে সবচেয়ে সহজ প্রতিক্রিয়া হলো দায়টা মন্ত্রীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া। সংসদে কটাক্ষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ কিংবা টেলিভিশনের টকশোতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমালোচনা মুহূর্তেই আলোচনার জন্ম দেয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো জটিল ও বিস্তৃত অবকাঠামোগত সংকট কি সত্যিই একজন মন্ত্রীর সক্ষমতা, বক্তব্য কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়?
বিদ্যুৎ না থাকার কষ্ট যে মানুষকে করতে হয়, তার কাছে অবশ্য এসব প্রশ্নের উত্তর খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। রাতে ফ্যান বন্ধ হয়ে গেলে, গরমে শিশুর ঘুম ভেঙে গেলে, দোকানের ফ্রিজ বন্ধ হয়ে পণ্য নষ্ট হলে, সেচের পাম্প না চললে কিংবা কারখানার মেশিন থেমে গেলে মানুষ শুধু একটি কথাই ভাবে বিদ্যুৎ কবে আসবে। তাই বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের ক্ষোভকে অস্বাভাবিক বলা যাবে না। বরং সেই ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়েই সমস্যার আসল জায়গায় যেতে হবে।
সাম্প্রতিক সংসদীয় বিতর্কে বিদ্যুৎমন্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত কটাক্ষের যে ঘটনা সামনে এসেছে, সেটি সেই জায়গায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মন্ত্রীকে কঠিন প্রশ্ন করা যাবে না—এমন কথা কেউ বলছে না। বরং তাঁকেই প্রশ্ন করতে হবে। কারণ তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক প্রধান। কিন্তু একটি বিশাল ও বহুস্তরীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সব দুর্বলতার দায় এক ব্যক্তির ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যাবে না। এতে হয়তো মুহূর্তের রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হবে, কিন্তু মানুষের ঘরের বাতি জ্বলবে না।
বরং আগে দেখা দরকার, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র এখন কী।
সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দেশে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা ছিল ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ, অফ-গ্রিড নবায়নযোগ্য ও অন্যান্য সক্ষমতা যুক্ত করলে মোট ক্ষমতা দাঁড়ায় ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াটের বেশি।
এই সংখ্যা শুনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে তাহলে দেশে বিদ্যুৎ সংকট কেন?
প্রশ্নটি যৌক্তিক, কিন্তু উত্তরটি শুধু উৎপাদনক্ষমতার সংখ্যার মধ্যে নেই।
কারণ স্থাপিত সক্ষমতা মানে হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট নামমাত্র উৎপাদনক্ষমতা। এর অর্থ এই নয় যে দেশের সব কেন্দ্র একই সময়ে পূর্ণ ক্ষমতায় চলছে। কোনো কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণে থাকতে পারে, কোনো ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি হতে পারে, কোথাও গ্যাস বা কয়লা সরবরাহ কম থাকতে পারে। কোথাও আবার কেন্দ্র সচল থাকলেও জাতীয় গ্রিডের পরিস্থিতির কারণে তার পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা যায় না।
এ কারণেই স্থাপিত সক্ষমতা এবং প্রকৃত উৎপাদন দুটি আলাদা বিষয়।
এর একটি বড় প্রমাণ পাওয়া গেছে চলতি বছরেই। ২০ মে ২০২৬ দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। সেদিন রাত ৯টায় সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। এর আগে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট, যা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই।
অর্থাৎ ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট মোট সক্ষমতার বিপরীতে এক সময়ে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে। এখান থেকেই বোঝা যায়, কাগজে থাকা মোট ক্ষমতা আর প্রয়োজনের মুহূর্তে বাস্তবে পাওয়া ক্ষমতা এক জিনিস নয়।
এখানে জ্বালানির প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি না থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা কাগজেই থেকে যায়। জুন ২০২৬-এ জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছিলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি এবং বঙ্গোপসাগরের বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাস ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। অর্থাৎ উৎপাদনক্ষমতা থাকার পরও জ্বালানি সরবরাহের সমস্যায় বাস্তব উৎপাদন কমে যেতে পারে।
আরও সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট গ্রিডভিত্তিক উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও কোনো কোনো সময়ে চাহিদা ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ নেমে এসেছিল ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াটে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও জ্বালানির অভাবে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা যাচ্ছিল না।
এখানে সংকটের একটি বড় চেহারা দেখা যায়। সমস্যা কেবল বিদ্যুৎকেন্দ্র নেই এমন নয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, সক্ষমতাও আছে, কিন্তু সব সময় সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
তবে এখানেই গল্প শেষ নয়।
উৎপাদিত বিদ্যুৎকে মানুষের ঘরে পৌঁছাতেও হয়। আর সেখানেই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আরেকটি দুর্বলতা সামনে আসে সঞ্চালন ও বিতরণ।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ ওভারহেড বিদ্যুৎলাইন এখনো বড় সমস্যা। কোনো কোনো ফিডারের দৈর্ঘ্য ৩০ কিলোমিটার, ৬০ কিলোমিটার, এমনকি ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বা তারও বেশি। এত দীর্ঘ লাইনের যেকোনো অংশে সমস্যা হলে পুরো ফিডারের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
গ্রামের বিদ্যুৎলাইন কোনো শূন্য জায়গার ওপর দিয়ে যায় না। পাশে থাকে গাছপালা, কৃষিজমি, ঝোপঝাড়। ঝড় হলে ডালপালা লাইনে পড়ে যেতে পারে। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে ইনসুলেটর কিংবা অন্য সরঞ্জামে সমস্যা হতে পারে। একটি ছোট ত্রুটি পুরো এলাকার বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতে পারে।
আরও কঠিন বিষয় হলো, ত্রুটির জায়গাটি খুঁজে পাওয়া।
একটি দীর্ঘ ফিডারের কোথাও গাছ পড়েছে, কোথাও ইনসুলেটর পাংচার হয়েছে, কোথাও তারে সমস্যা হয়েছে—এটি কেন্দ্রীয় কক্ষে বসে সব সময় বোঝা যায় না। লাইনম্যানকে মাঠে যেতে হয়। কখনো কয়েক কিলোমিটার, কখনো আরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সমস্যাটি খুঁজে বের করতে হয়। তারপর মেরামত। এরপর আবার লাইন চালু।
এই ব্যবস্থায় একটি ছোট সমস্যা বড় বিভ্রাটে রূপ নেওয়া খুব অস্বাভাবিক নয়।
প্রাপ্ত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ গ্রামীণ লাইনে সংঘটিত ফল্টের বড় অংশ সিঙ্গেল লাইন-টু-গ্রাউন্ড ধরনের হতে পারে; প্রায় ৭৫ শতাংশ ফল্টের সঙ্গে গাছপালা ও ইনসুলেটর লিকেজের মতো পরিবেশগত কারণের সম্পর্ক থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ফিডারে ভোল্টেজ ড্রপও একটি বড় সমস্যা।
এখন প্রশ্নটি আবার সামনে আসে এই সব সমস্যার জন্য কি বিদ্যুৎমন্ত্রী দায়ী?
দায়ী অবশ্যই আছেন, তবে রাজনৈতিক অর্থে। তিনি সরকারের বিদ্যুৎ নীতির জন্য জবাবদিহি করবেন। কেন কোনো এলাকায় বারবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে, কেন অবকাঠামো উন্নত হয়নি, কেন নতুন উপকেন্দ্র হয়নি, কেন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি মজুত নেই এসব প্রশ্নের উত্তর তাঁকে দিতে হবে।
কিন্তু গাছের একটি ডাল কোন তারে গিয়ে পড়ল, কোন ইনসুলেটর কখন পাংচার হলো, কোনো নির্দিষ্ট ফিডারে কোথায় ত্রুটি হলো এসবকে একজন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে বাস্তবতাকে খুবই সরল করে ফেলা হয়।
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি দুর্বলতা হলো, জটিল সমস্যার সহজ একজন দায়ী মানুষ খুঁজে বের করা। এতে জনগণের ক্ষোভের তাৎক্ষণিক বহিঃপ্রকাশ হয়, কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না।
বিদ্যুৎ খাতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এই সরলীকরণ থেকে বের হওয়া।
বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদাও আগের মতো নেই। গ্রামীণ অর্থনীতি বদলে গেছে। কৃষিতে সেচ, ক্ষুদ্র শিল্প, দোকানপাট, ওয়ার্কশপ, ফ্রিজ, মোটর, অনলাইন ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। আগে যে গ্রামে সন্ধ্যার পর কয়েকটি বাতি জ্বললেই বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হতো, এখন সেখানে দিনের বড় সময় বিদ্যুৎনির্ভর কর্মকাণ্ড চলছে।
অর্থনীতির এই পরিবর্তনকে যদি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পুরোনো অবকাঠামো দিয়ে সামলাতে হয়, তাহলে কোথাও না কোথাও চাপ তৈরি হবেই।
এ কারণেই এখন শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কথা বললে চলবে না। উৎপাদনের পাশাপাশি বিতরণব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। দীর্ঘ ফিডার ভেঙে ছোট করতে হবে। নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। ট্রান্সফরমারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির আঞ্চলিক মজুত করতে হবে।
সবচেয়ে বেশি দরকার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
ফল্ট লোকেটর থাকলে লাইনম্যানকে পুরো ফিডার ঘুরে সমস্যা খুঁজতে হয় না। অটোমেটিক রিক্লোজার থাকলে কিছু ধরনের ক্ষণস্থায়ী ত্রুটির পর দ্রুত সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা যায়। রিমোট মনিটরিং এবং স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি বিস্তৃত হলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা দ্রুত বোঝা সম্ভব। পিজিসিবির কিছু ৩৩ কেভি ফিডারে এসসিএডিএ ও আন্ডারফ্রিকোয়েন্সি রিলে ব্যবহারের তথ্যও রয়েছে। এখন প্রয়োজন এই সক্ষমতাকে আরও বিস্তৃত করা।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। গ্যাস, কয়লা ও আমদানিনির্ভর জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা থাকলে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ সীমিত। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের অংশ বাড়াতে হবে। সাম্প্রতিক সংবাদেও সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে ৮০৯ দশমিক ৫ মেগাওয়াট নতুন সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছে।
তবে এখানেও বাস্তবতার সঙ্গে থাকতে হবে। নবায়নযোগ্য শক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আগামীকাল সকালেই এটি সব সংকটের সমাধান করে দেবে এমন আশা বাস্তবসম্মত নয়। বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
এই জায়গাতেই বর্তমান সরকারের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি।
বিগত সরকারগুলো কী রেখে গেছে, তার হিসাব অবশ্যই হতে হবে। কোথায় ভুল পরিকল্পনা হয়েছে, কোথায় বিনিয়োগের অগ্রাধিকার ভুল ছিল, কেন উৎপাদনের তুলনায় বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন পিছিয়ে ছিল এসবেরও প্রশ্ন থাকবে। কারণ বর্তমান অবস্থা এক দিনে তৈরি হয়নি।
কিন্তু বর্তমান সরকারও অতীতের দায়কে ঢাল বানিয়ে দীর্ঘদিন বসে থাকতে পারে না। মানুষ আজ বিদ্যুৎ না পেলে আজকের সরকারকেই প্রশ্ন করবে। এটি স্বাভাবিক এবং গণতন্ত্রেরও নিয়ম।
তাই সংসদে বিদ্যুৎ নিয়ে আরও কঠিন, আরও নির্দিষ্ট এবং তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন প্রয়োজন। মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা হোক কোথায় কতটি ফিডার দীর্ঘ, কোথায় নতুন উপকেন্দ্র প্রয়োজন, কোন এলাকায় কতবার বিভ্রাট হচ্ছে, গড় মেরামত-সময় কত, কতগুলো ট্রান্সফরমার অতিরিক্ত চাপে চলছে এবং কোন কোন এলাকায় আধুনিক ফল্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বসানো হবে।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের হলে জনগণ জানতে পারবে সরকার সত্যিই কী করছে।
ব্যক্তিগত কটাক্ষে এক দিনের উত্তেজনা তৈরি হয়। কিন্তু একটি উপকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত বহু বছরের ফল দিতে পারে। একটি আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হাজার হাজার গ্রাহকের দুর্ভোগ কমাতে পারে। একটি শক্তিশালী রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা শিল্প ও কৃষির ক্ষতি কমাতে পারে।
সুতরাং বিদ্যুৎ সংকটের রাজনৈতিক বিচার হোক, কিন্তু রাজনৈতিক বিদ্বেষের ভাষায় নয়। মন্ত্রীর জবাবদিহি থাকুক, কিন্তু সঙ্গে থাকুক ব্যবস্থারও নিরীক্ষা।
কারণ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমস্যা নয়। এটি উৎপাদন, জ্বালানি, সঞ্চালন, বিতরণ, প্রযুক্তি, জনবল, পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত সমস্যা।
এই সমস্যাকে একজন মানুষের শরীর বা ব্যক্তিত্বের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
খুঁজতে হবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে, জ্বালানি সরবরাহে, গ্রিডে, উপকেন্দ্রে, ফিডারে, ট্রান্সফরমারে এবং শেষ পর্যন্ত সেই তারটিতে—যেটি একটি গ্রামের বাড়ির সামনে এসে থেমেছে।
মানুষ শেষ পর্যন্ত খুব বেশি কিছু চায় না। সে চায় রাতে ফ্যান চলুক। কৃষকের সেচ পাম্প চলুক। দোকানের পণ্য নষ্ট না হোক। কারখানার মেশিন থেমে না থাকুক। তার সন্তানের পড়াশোনা যেন অন্ধকারে আটকে না যায়।
তাই এখন সময় মন্ত্রীকে নিয়ে হাসাহাসির চেয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে নিয়ে সিরিয়াস হওয়ার।
কারণ একজন মন্ত্রী বদলালে সরকার বদলাতে পারে। কিন্তু দুর্বল অবকাঠামো না বদলালে অন্ধকার বদলায় না।
আর অন্ধকারে থাকা মানুষের কাছে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন একটাই—সুইচ টিপলে আলো জ্বলে কি না।
রাজু আলীম
কবি, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব![]()