মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এম এ খান বেলাল
ব্যবসা, ব্যাংকিং ও সমাজসেবায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা এম এ খান বেলাল। গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪৯০তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। এর আগে তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংকের কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।
দেশের করপোরেট অঙ্গনে সুপরিচিত উদ্যোক্তা এম এ খান বেলাল সম্রাট গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান। তার নেতৃত্বে গ্রুপটি ট্রেডিং, উৎপাদনশিল্প, আমদানি-রপ্তানি, শিপিং, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে তিনি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে অবদান রেখেছেন। ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য তিনি ব্যবসায়ী মহলে একজন দক্ষ করপোরেট নেতা হিসেবে পরিচিত।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাংকের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসন, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা বিস্তারে বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
ব্যাংকিং খাত বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে এম এ খান বেলালের নেতৃত্ব ব্যাংকটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শিল্প ও বাণিজ্য খাতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ব্যাংকের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী আর্থিক সেবা চালুর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে একটি আস্থাশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। ব্যক্তি গ্রাহক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বহুমুখী ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং, ডিজিটাল লেনদেন, এজেন্ট ব্যাংকিং, এসএমই অর্থায়ন, কৃষিঋণ এবং বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে ব্যাংকটি ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও এম এ খান বেলালের ভূমিকা সুপরিচিত। তিনি নোয়াখালী জেলা সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দায়িত্বের মাধ্যমে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং জেলার মানুষের কল্যাণে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
নিজ জন্মস্থান নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে শিক্ষা বিস্তার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি এলাকায় একাধিক স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনহিতকর কার্যক্রমে অবদান রেখে আসছেন। চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং অসচ্ছল মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তামূলক উদ্যোগেও তিনি নিয়মিত সম্পৃক্ত রয়েছেন।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার এই সমন্বয় তাকে একজন দায়িত্বশীল করপোরেট ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার বিশ্বাস, একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা শুধু আর্থিক সূচকে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখাও একটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তার বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতায় ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা, গ্রাহকবান্ধব সেবা এবং টেকসই অর্থায়ন এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে এম এ খান বেলাল এসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবেন। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ, গ্রাহকের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক মানের করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো তার নেতৃত্বে আরও গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে সহায়তা, উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন অর্থায়ন পণ্য চালু এবং সবুজ অর্থায়নের মতো খাতে ব্যাংকের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের আস্থা আরও সুদৃঢ় করা, শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এম এ খান বেলালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং সুশাসনের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রত্যাশা করছেন ব্যাংকের পরিচালক, কর্মকর্তা, গ্রাহক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। ব্যাংকের বিদ্যমান অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও কার্যকর অবদান রাখার মাধ্যমে ব্যাংকটি আগামী দিনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সংশ্লিষ্ট মহলের।